প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনে এখনো কোনো তফসিল ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন(ইসি)। এরপরও থেমে নেই সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এরইমধ্যে অন্তত একডজনখানি প্রার্থী নৌকার টিকেটের আশায় ঢাকা-৫ নির্বাচনের ৩টি থানা এবং ১৪টি ওয়ার্ডের অলিগলি থেকে শুরু করে সর্বত্রই চষে বেড়াচ্ছেন। তবে এসব প্রার্থী শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন,তাকেই মেনে নিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করবেন। এমনটি জানিয়েছেন প্রার্থীরা। তাদের মধ্যে অন্যতম রাকিব ভুইয়া (ভুইয় বাবু)। তিনি দীর্ঘদিন যাবত এলাকাবাসীর কল্যাণে সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন। বিপদ-আপদে সবসময় নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের পাশে
দাঁড়িয়েছেন। বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের সময়ও তিনি ঢাকা-৫ নির্বাচনী এলাকার অসহায়-শ্রমজীবী ও কর্মহীন মানুষের পাশে রয়েছেন এক সেবক হিসেবে। করোনা ভাইরাস শুরুর পর থেকেই ব্যক্তি উদ্যোগে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের মাঝে হ্যা-স্যানিটাইজার ও মাস্ক-লিফলেট, খাদ্য সহায়তা প্রদান করে আসছেন। একইসাথে ঢাকা-৫ উপনির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী রাকিব ভূইঁয়া জরুরি সেবার মাধ্যমে (ফোন কল) সাথে সাথে নিজে এবং নিজের লোক দিয়ে খাদ্য পাঠিয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়ে যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, ঢাকা-৫ (ডেমরা-যাত্রবাড়ী ও আংশিক কদমতলী) আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে সংসদ সচিবালয়। তবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না হলেও এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নৌকার মাঝি হতে চান রাকিব ভূঁইয়া। এই আসনটি ১৪টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে রাকিব ভূঁইয়া ও তার সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছে প্রচার-প্রচারণা। এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মাতুয়াইল হাজী আ: লতিফ ভূঁইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সভাপতি ও ভূঁইয়াবাড়ি জামে মসজিদ, মুসলিম নগর খায়রুল সুফিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মোতাওয়ালি্ল মো: আ: রাকিব ভূঁইয়া (ভূঁইয়া বাবু) শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক ভিপি কামরুল ইসলাম বাঘা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা-৫ আসনে উপনির্বাচনে রাকিব ভূঁইয়াকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে জয় লাভ করবেন। তিনি আরো বলেন, তার পরিবার ঢাকা-৫ আসনের মানুষের জন্য যা করেছে তা মনে রাখার মতো, তার পরিবার সারাজীবন মানুষের জন্য কাজ করে গেছে। শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্যে রাকিব ভূঁইয়ার বাবা আব্দুল বাতেন ভূঁইয়া মাতুয়াইল হাজী আ: লতিফ ভূঁইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৪ সালে মানুষের কল্যাণে ফাজিল ভূঁইয়া ওয়াক্ফ এসেস্ট প্রতিষ্ঠা করে তার পরিবার। তৎকালীন ঢাকা-৫ আসনের মানুষের পানির চাহিদা পূরণের জন্য বিশাল দীঘি খনন করে, যা আজো মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। তার পরিবার মাতুয়াইল কেন্দ্রীয় ঈদ গাহের জমি দান করেন।
এ বিষয়ে কথা হয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি মুনসুর আবেদীন মুকুলের সাথে। তিনি বলেন, আমরা ঢাকা-৫ আসনে রাকিব ভূঁইয়াকে চাই। কারণ এই ভূঁইয়া পরিবার ঢাকা-৫ আসনের মানুষের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছে। তিনি শিক্ষা অনুরাগী, সমাজসেবক একজন মানুষ। এই আসনের উপনিবার্চনে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকার মাঝি হিসেবে রাকিব ভূঁইয়াকে (বাবু ভূঁইয়া) মনোনীত করবেন। একই সুরে কথা বলেন শিক্ষক নেতা এম এ সিদ্দিক মিয়া। তিনি বলেন, রাকিব ভূঁইয়া দীর্ঘ দিন ধরেই এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন। জনগণের খোঁজখবরও নিয়মিত রাখেন। বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে সর্বসাধারণের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেবক হিসেবে। তার উদ্যোগে করোনা শুরুর প্রথম থেকে গণসচেতনতা তৈরি, মাস্ক বিতরণ, মাইকিং, লিফলেট, খাদ্য সহায়তা প্রদান, ফোন কলের সাথে খাদ্য পাঠিয়েছেন নিজে গিয়ে বা কখনো লোক পাঠিয়ে দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী রাকিব ভূঁইয়াকে নৌকার মাঝি বানালে বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরব ইনশা আল্লাহ। এমনটি প্রত্যাশা ডেমরা-সারুলিয়া, স্টাফ-কোয়াটার, বামৌল-সাইনবোর্ড, রায়েরবাগ, বড়ভাঙ্গা, ডগাইর-কোনাপাড়া,শনিরআখড়া-মৃর্ধাবাড়ি,যাত্রাবাড়ীর নেতাকর্মীদের।
এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা-৫ উপনির্বাচনে নৌকার সম্ভব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী রাকিব ভূঁইয়ার সাথে। তিনি বলেন, নেতৃত্ব হচ্ছে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দান। আশা করছি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা-৫ আসনে আমাকে নৌকার টিকেট দিবেন। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি না হয়েও এলাকায় সমাজসেবা-উন্নয়নমূলক কাজে নিয়োজিত আছি, আর পদে থাকার সুযোগ পেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাজনীতির সার্বিক চর্চা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে নিয়োজিত থাকব। জনগণ আমাকে ভালোবাসে তাই আমি জনগণের সাথে মিশে আছি। আমার পরিবার ও আমার কার্যক্রমের কারণে এলাকাবাসী আমাকে আপন করে নিয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা উপনির্বাচনে আমাকে নৌকার মাঝি ঘোষণা করলে ঢাকা-৫ আসনকে একটি রোল মডেল হিসেবে তৈরি করব। আমার নির্বাচনী এলাকায় মানুষের জন্য কমপক্ষে ১০০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশ্বমানের অত্যাধুনিক ৫ থেকে ১০ বিঘার নিজস্ব জমিতে শেখ হাসিনা বা শেখ রাসেলের নামে ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করব। বন্ধবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নিজস্ব জমিতে নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করব। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা নামে অবহেলিত বাবা-মায়েদের জন্য নিজস্ব জমিতে বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা করব। সুপেয় পানির জন্য প্রয়োজন মোতাবেক পৃথক পৃথক স্থানে পাম্প স্থাপন করব। অবহেলিত খেলার মাঠটিকে প্রশস্ত করে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ কামালের নামে মিনি স্টেডিয়াম তৈরি করব। মাতুয়াইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহকে প্রশস্ত করে যেন কমপক্ষে ২০ হাজার মুসলি্ল একসাথে নামাজ আদায় করতে পারে সে ব্যবস্থা করব। দুর্নীতি, মাদক, চাঁদাবাজ ও দখলদারমুক্ত সমাজ গঠন করব। দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলার মাধ্যমে ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনটিকে শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তুলব।
লাইটনিউজ/এসআই