রাজধানীর ধানমন্ডিতে তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। এসময় বেশ কয়েকজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ধানমন্ডির মাসজিদ-উত-তাকওয়ায় (তাকওয়া মসজিদ) এ ঘটনা ঘটে। আটকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক।
জানা গেছে, তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে হঠাৎ উপস্থিত কয়েকজন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করেন। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে ১০ থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘যথাসময়ে স্মুথলি মরদেহবাহী গাড়ি যাতে করে যেতে পারে, আমরা সেই ব্যবস্থা করেছি। আর যারা বিশৃঙ্খলা করেছে তাদের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে কতজনকে আটক করা হয়, সেই সংখ্যাটি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। যাচাই-বাছাই করে জানানো হবে।’
আটকরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী কি না— এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশৃঙ্খলাকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। যারা বিশৃঙ্খলা করেছে তাকে ধরা হয়েছে। তবে যদি আটককৃতদের মধ্যে সাধারণ কেউ থাকে, তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। বর্ষীয়ান এই নেতার পরবর্তী জানাজা হবে আগামীকাল (মঙ্গলবার) ভোলায় তার গ্রামের বাড়িতে।
তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন প্যারালাইজডসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আওয়ামী লীগের এ উপদেষ্টামন্ডলীর এ সদস্য। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি থাকাকালীন তৎকালীন আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে দেশজুড়ে পরিচিতি পান তিনি।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়াও আরও ৮ বার স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। ‘মুজিব বাহিনী’র অন্যতম আঞ্চলিক অধিনায়ক রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর এ সদস্য ১৯৯৬ সালের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালেও তিনি বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।