লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে যুদ্ধ অবসানের কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা যে কোনো শান্তি চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সোমবার (১ জুন) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই।
লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে ইরায়েলের হামলার শিকার। গত ৮০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েল এ অঞ্চলের দেশগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
বাঘাই দাবি করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট ও গুরুতর লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, আমরা বারবার জোর দিয়ে বলেছি এবং এখনও বলছি, লেবাননে যুদ্ধবিরতি যেকোনো যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধ সমাপ্তির চূড়ান্ত চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ইরানি মুখপাত্রের অভিযোগ, শুধু ইসরায়েল নয়, যুক্তরাষ্ট্রও ব্যাপকভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তিনি ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে চলমান পদক্ষেপকে সামুদ্রিক দস্যুতা আখ্যা দিয়ে বলেন, এসব কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের শামিল।
লেবানন ও সেখানকার প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বাঘাই বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র হিসেবে আমরা লেবানন এবং লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনকে সহায়তা করতে আমাদের সামর্থ্যের সবকিছু করব।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন বারবার অবস্থান পরিবর্তন এবং নতুন বা পরস্পরবিরোধী দাবি উত্থাপন করে আসছে, যা আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে বাঘাই জানান, বর্তমানে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, পারমাণবিক বিষয়ে কখন এবং কীভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, তা আমরা খুব ভালো করেই জানি। তবে এ মুহূর্তে পারমাণবিক ইস্যুর বিস্তারিত নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য এখন যুদ্ধের অবসান।
ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদের বিষয়ে তিনি বলেন, বিদেশে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের অর্থ ফেরত পাওয়া দেশটির একটি চূড়ান্ত দাবি। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, কারণ এটি ইরানি জনগণের ন্যায্য অধিকার।
এছাড়া পারস্য উপসাগরে সম্ভাব্য ন্যাটো হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করে বাঘাই বলেন, পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপ বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
তিনি বলেন, ন্যাটো বা ইউরোপীয় দেশগুলো যদি সত্যিই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে চায়, তাহলে তাদের উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনা। কারণ বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ী।
সূত্র : প্রেস টিভি