বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন

নভেম্বরেই ইরানে ব্যাপক হামলার ছক!

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

ইরানে নতুন দফায় ভয়াবহ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ওই হামলা হতে পারে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্বল্প সময়ের মধ্যে তীব্র হামলা চালিয়ে তেহরানকে কূটনৈতিক আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করতে চায় ওয়াশিংটন। কিন্তু এই পরিকল্পনায় শেষ পর্যন্ত সায় দেবেন কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প?

শুরু হতে যাচ্ছে ইরান যুদ্ধের নতুন অধ্যায়? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সেই আভাসই দিচ্ছে। শিগগিরই ইরানে ভয়াবহ হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর পরপরই ইরানে ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে।

এ বিষয়ে অবগত মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, ইরানে হামলার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম জড়ো করছে, যা নভেম্বরের শুরুর দিকে পুরোপুরি প্রস্তুত অবস্থায় থাকবে। সামরিক মহড়াও জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের প্রতিবেশী দেশ ইরাকের আকাশসীমা পর্যন্তও বিমান উড্ডয়ন চলছে। তবে ঠিক কবে হামলা চালানো হতে পারে তার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানা যায়নি।

কেউ কেউ বলছেন, চলতি মাসেও ট্রাম্প ইরানে হামলা চালাতে পারে। তবে কর্মকর্তাদের মতে, চলতি মাসেই এই সম্ভাবনা ক্ষীণ। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হামলা না চালিয়ে ট্রাম্পের অপেক্ষার পেছনে বেশ কিছু রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে তিনি নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাছাড়া, নভেম্বরের আগে প্রয়োজনীয় সব সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনীও পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে না। নতুন দফায় হামলার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে, তিনটি বিমানবাহী রণতরি, হাজার হাজার মেরিন সেনা, যুদ্ধবিমান এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনী। মার্কিন সামরিক বাহিনী সাধারণত রাতের অন্ধকারে হামলা চালাতে পছন্দ করে। নভেম্বরের শুরুতে ইরানের ওপর রাতের অন্ধকারের সময়ও বাড়বে। সব মিলিয়েই সেটি অনুকূল সময়।

এই দফায় সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, নতুন করে বড় ধরনের হামলা হলে ইরানের অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে। এর মাধ্যমে তেহরানকে কূটনৈতিক আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করা যাবে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এ যাত্রায় টানা তিন দিন তীব্র সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে।

কিন্তু এই কৌশল কি ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে পারবে? নাকি যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িতই করবে? পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একটি বিষয় স্পষ্ট, এখন পর্যন্ত প্রচলিত সামরিক অভিযান, কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা মার্কিন নৌ অবরোধ কোনোটিই ইরানি সরকারকে কাবু করে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। ফলে, আগামীতে এসব কৌশল কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনবে, তেমন সম্ভাবনা কম। বরং যুদ্ধের প্রতিটি ধাপে আরও কঠোর অবস্থানে চলে গেছে ইরান।

এদিকে ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনও ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনায় জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু নির্বাচনে হেরে গেলে তিনি কিছুকাল অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু সে অবস্থায় তার পক্ষে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা কঠিন হবে। তবে ইরান যদি আগে হামলা চালায়, তাহলে পরিস্থিতি হবে আরেক রকম। সব মিলিয়ে আগামী দুয়েক সপ্তাহের সম্ভাব্য গতিপ্রকৃতি এক ধরনের চাপা ও স্পর্শকাতর বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD