জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী ‘জাহাঙ্গীরনগর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’।
উৎসবের সমাপনী দিনে কিংবদন্তি অভিনেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হুমায়ূন ফরীদিকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সম্মাননা জানানো হয়।
‘দৃশ্যে গাঁথি শিল্পের সুর, মুক্ত করি প্রাণ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য সংগঠন ‘বাংলা থিয়েটার’ প্রথমবারের মতো এই চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করে। গত ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবটি টানা তিন দিন চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, মাস্টারক্লাস ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত ছিল।
উৎসবে বিশেষ গুরুত্ব পায় জাবির সাবেক শিক্ষার্থী ও কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদির অবদান। ১৯৫২ সালে জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পী ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং এখানকার নাট্যমঞ্চ থেকেই তার অভিনয়ের হাতেখড়ি। নিজ ক্যাম্পাসে তার এই অসামান্য কীর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতেই আয়োজকরা তাকে এই বিশেষ মরণোত্তর সম্মাননায় ভূষিত করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান সংগঠক ও বাংলা বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাসির খন্দকার বলেন, ‘শুরুর দিকে থিয়েটার ও চলচ্চিত্র এক সুতোয় গাঁথা থাকলেও বর্তমানে আমরা এ দুটি মাধ্যমকে আলাদাভাবে ভাবি।
আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল থিয়েটার ও চলচ্চিত্রের মধ্যে সেই পুনঃসংযোগ ঘটানো। এই আলাদাভাবে ভাবার দেয়ালটা ভেঙে দুটি মাধ্যমকে আবারও এক বিন্দুতে আনার লক্ষ্যেই আমাদের এই পথচলা।’
হুমায়ুন ফরীদি ছাড়াও উৎসবে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন শাখায় বিশেষ অবদানের জন্য শহীদুজ্জামান সেলিম, আবু রিজওয়ান ইউরেকা, আইনুন নাহার পুতুল ও অবন্তী সিঁথিসহ মোট ১৮ জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগে ‘সাঁতাও’, ‘জ্বীনের বাচ্চা’, ‘কাজলরেখা’, ‘ইন্তেজার : প্রথম প্রহর’ ও ‘হাফ টু ইনফিনিটি’র মতো চলচ্চিত্রগুলো পুরস্কৃত হয়েছে।
সমাপনী দিনে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও অভিনয় শৈলী নিয়ে বিশেষ মাস্টারক্লাসের আয়োজন করা হয়। যেখানে অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। তিন দিনের এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকরা আশা করছেন, প্রতি বছর এমন উৎসবের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সুস্থ চলচ্চিত্র সংস্কৃতি আরও বেগবান হবে।