মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ন

নেতানিয়াহুকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করলেন ট্রাম্প

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

লেবাননে সামরিক আগ্রাসন বৃদ্ধির জেরে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার (১ জুন) দুই নেতার মধ্যে বেশ উত্তপ্ত ফোনালাপ হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। এ সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুর উদ্দেশে অশালীন শব্দও ব্যবহার করেন।

দুটি সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানায়, এদিনের ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বলেন ট্রাম্প। তার বিরুদ্ধে অকৃতজ্ঞতার অভিযোগও তোলেন। সেইসঙ্গে বৈরুতে হামলা চালানোর ইসরাইলি পরিকল্পনায় আপাতত রাশ টেনেছেন তিনি।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, লেবাননের রাজধানীতে বোমাবর্ষণের হুমকি বাস্তবায়ন করলে আন্তর্জাতিক মহলে ইসরাইল আরও বেশি একঘরে হয়ে পড়বে।

দুটি সূত্র জানায়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে মনে করিয়ে দেন যে তার সাহায্যেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এখনও জেলের বাইরে আছেন। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার সময় তাকে সমর্থন দেওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন ট্রাম্প।

নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প বলেছেন, ‘তুমি বদ্ধ উন্মাদ (ইউ আর ফাকিং ক্রেজি)। আমি না থাকলে তোমাকে জেলে পচতে হতো। আমিই তোমাকে বাঁচাচ্ছি। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এসবের জন্য সবাই এখন ইসাইলকেও ঘৃণা করে।’

এ আলোচনা সম্পর্কে অবগত দ্বিতীয় এক সূত্র জানায়, ট্রাম্প রীতিমতো ‘ত্যক্তবিরক্ত’ ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি নেতানিয়াহুর ওপর চিৎকার করে ওঠেন, ‘তুমি করছটা কী?’

ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের মনে হয়েছে, নেতানিয়াহু মাত্রাতিরিক্ত ও অহেতুক আগ্রাসন দেখাচ্ছেন।

লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে উদ্বেগ

ফোনালাপের আগে ট্রাম্প জানতেন যে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে হামলা চালাচ্ছিল এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজন ছিল। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নেতানিয়াহু পরিস্থিতিকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছেন বলে ট্রাম্পের ধারণা তৈরি হয়।

এদিকে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানও সম্প্রসারণ করছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, লেবাননে উত্তেজনা বাড়ানোর ফলে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনাও ভেঙে পড়তে পারে বলে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আরও জানান, একজন হিজবুল্লাহ কমান্ডারকে লক্ষ্য করে পুরো ভবন ধ্বংস করার পরিকল্পনারও বিরোধিতা করেছিলেন ট্রাম্প। এতে সাধারণ লেবানিজ নাগরিকদের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।

ফোনালাপের পর এক ইসরাইলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, বৈরুতে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা আপাতত আর নেই।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সম্পর্ক: সহযোগিতা ও টানাপোড়েন

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কখনও প্রকাশ্যে ঘনিষ্ঠতা দেখা গেলেও, ব্যক্তিগত পর্যায়ে তাদের মধ্যে একাধিকবার মতবিরোধ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তারা একসঙ্গে কাজ করলেও অতীতে বেশ কয়েকটি কঠিন ফোনালাপ হয়েছে।

তবে অ্যাক্সিওসের দাবি, গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সবচেয়ে খারাপ ফোনালাপগুলোর একটি।

ফোনালাপের পর কী ঘটল?

ফোনালাপ শেষে ট্রাম্প সেটিকে ‘ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেন এবং জানান, ইসরাইলি সেনারা বৈরুতের দিকে অগ্রসর হবে না।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আমি আজ বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাকে বৈরুতে বড় ধরনের অভিযান না চালানোর অনুরোধ করেছি। তিনি সেনাদের ফিরিয়ে নিয়েছেন। ধন্যবাদ, বিবি!’

ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি হিজবুল্লাহ নেতাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তাদের পক্ষ থেকেও ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা

বন্ধ করার আশ্বাস পাওয়া গেছে। একইভাবে ইসরাইলও হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে।

নেতানিয়াহুর ভিন্ন ব্যাখ্যা

অন্যদিকে নেতানিয়াহুও ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেন, এটি কোনো চাপের ঘটনা নয়; বরং তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে হিজবুল্লাহ হামলা চালাতে থাকলে বৈরুতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাবাহিনী পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের অভিযান চালিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD