‘প্লিজ, আপনারা কিছু লিখিয়েন না। পরে ওরা আমাদের মেরে ফেলবে। আমাদের নিরাপত্তা দেবে কে? যা হওয়ার হয়েছে। আমরা পুলিশকে জানাব না।’ চট্টগ্রামের রাউজানে ডাকাতির পর ভুক্তভোগী গৃহকর্ত্রী মিতা বড়ুয়া হাতজোড় করে সংবাদিকদের কাছে এই আকুতি করেন।
সোমবার মধ্যরাতে উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহামুনি গ্রামের মৃত সুদর্শন বড়ুয়ার বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। চারদিকে পাকা সীমানা প্রাচীরে ঘেরা বাড়িতে থাকেন ষাটোর্ধ্ব গৃহকর্ত্রী মিতা বড়ুয়া, তাঁর এক পুত্রবধূ ও দুই নাতি। বড় ছেল সপরিবারে ফ্রান্সে এবং ছোট ছেলে চাকরির সুবাদে নগরীতে থাকেন। অতীতে কখনও চুরির ঘটনাও ঘটেনি বাড়িটিতে। এবার ডাকাতি হওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
গৃহকর্ত্রী মিতা বড়ুয়া বলেন, রাত দেড়টার দিকে আটজনের একটি দল আমার ঘরে ঢুকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। আমাকে বলে ‘ওয়ান ব্যাংক থেকে যে এক লাখ টাকা তুলে এনেছ, সেগুলো দাও। আমাদের কাছে তথ্য আছে।’ আমাকে কিছু বলতেও দেয়নি। তাদের প্রত্যেকের হাতে অস্ত্র ছিল। আমার পুত্রবধূর ঘরে ঢুকে নাতিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমি তাদের বললাম, যা যা লাগে নিয়ে যান, আমার নাতিকে মারবেন না। তারা রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ঘরে অবস্থান করে। পরে আমাকে পুত্রবধূর ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে মোবাইল ফোনগুলো নিয়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় ডাকাতরা হুমকি দেয়, পুলিশকে জানালে পরে এসে মেরে ফেলবে। আমার ছেলে ঘরে থাকলে তাকে মেরে ফেলত তারা।
ভোর ৪টার দিকে জানালা দিয়ে একজনকে ডেকে গৃহকর্ত্রী জানান, তাঁর বাড়িতে ডাকাত পড়েছে। তবে ডাকাত দল কী নিয়ে গেছে, তিনি বলতে রাজি হননি। বারবারই বলছিলেন, ‘আমরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।’
গৃহকর্ত্রীর ভাই মহামুনি এংলো পালি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অঞ্জন বড়ুয়া বলেন, আমার বোনের ঘরে কোনো পুরুষ নেই। আগে কখনও চুরি-ডাকাতি হয়নি। এবার ডাকাতরা টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল সেটসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে গেছে।
রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে ওই বাড়িতে পুলিশ গিয়ে তদন্ত শুরু করছে। ডাকাতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।