শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লিবিয়ার জিম্মিদশায় ১১৯ মাফিয়ার মানব পাচার নেটওয়ার্ক মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট লাগানো নিয়ে সময়সীমা বেঁধে দিল বিআরটিএ দেশের ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মেডিকেল ট্যুরিজমে থাইল্যান্ডে চমক সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা সোলায়মান মার্কিন অভিযানের তথ্য ফাঁসকারীদের গুলি করে হত্যা করা উচিত: ট্রাম্প ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ জনের মৃত্যু সৌদিগামী ১০৩ ফ্লাইট বাতিল, আটকা সাড়ে ১৫ হাজার যাত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব :স্বাস্থ্যমন্ত্রী আইএমএফের ঋণে শর্ত থাকবে, তা পূরণ করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : পদ্মা সেতুকে ঘিরে বদলে যেতে চলেছে দক্ষিণাঞ্চলের চিত্র। ইতোমধ‌্যে পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে পদ্মা পাড়ে গড়ে উঠছে বিভিন্ন স্থাপনা। শিল্প মালিকরা জমি কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।

যে চরাঞ্চল ছিল জনবিচ্ছিন্ন, ছিল না বিদ্যুৎ। সেই জনবিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল শিবচরসহ গোটা মাদারীপুর জুড়ে চলছে দেশের মেগা সব প্রকল্প নিয়ে পরিকল্পনা। এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের চিত্র। বদলে যাবে দেশের অর্থসামাজিক চিত্র।

শুধু পদ্মাসেতুর কাজই এগিয়ে চলছে না, সাথে সেতুকে ঘিরে পদ্মা পাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকার মানও পরিবর্তন করার চেষ্টা চলছে। হাতে নেওয়া হয়েছে শত শত কোটি টাকার মেগা প্রকল্প।

দক্ষিণের জেলা মাদারীপুরে এসব মেগা প্রকল্পের জন্যে অধিগ্রহণ করা হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার একর জমি। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রকল্পে কাজ দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এতে আশান্বিত সাধারণ মানুষঅ দুঃখ ঘুচবে নিম্নাঞ্চলের মানুষের। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের চিত্র।

এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন কলকারখানা গড়ে তোলার জন্য জমি ক্রয় করছে বিভিন্ন বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। এতে করে এই অঞ্চলে কর্মসংস্থান বাড়বে। কমবে বেকারত্ব। অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সোনালী দিনের স্বপ্ন দেখছে এসব প্রকল্প ঘিরে।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিবচরের কুতুবপুরে ৭০ একর জায়াগায় দেশের প্রথম ইনফরমেশন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ও হাইটেক পার্ক নির্মাণ কাজ প্রক্রিয়াধীন।

একই ইউনিয়নে ১০৮ একর জমিতে বেনারসি পল্লী নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নির্মাণের জন্য ১৫ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পিত শহরায়নের জন্য ৭৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে শিবচরে। এখানে ‘দাদাভাই উপশহর’ নামে পরিকল্পিত শহরায়নের প্লট বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে ৮ কিলোমিটার লম্বা ও ৫ কিলোমিটার প্রস্থের আধুনিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

শিগগিরই চরাঞ্চলের চরজানাজায় অলিম্পিক ভিলেজ নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু করবে সরকার। চরজানাজায় এক হাজার একর জমিতে অলিম্পিক ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে সাতটি স্টেডিয়াম থাকবে বলে জানা গেছে। এসব স্টেডিয়ামগুলো হবে আন্তর্জাতিক মানের। সকল সুযোগ সুবিধা থাকবে এ স্টেডিয়ামগুলোতে।

পাশেই ১২০০ একর জমিতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করেছে গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়। পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল সড়ক হচ্ছে পদ্মাসেতুকে ঘিরেই। পদ্মাসেতুর দুই পাড়ে ৫৫ কিলোমিটার ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়কে এই সড়ক নির্মাণ শেষ হয়েছে। এর নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৯৬২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

চারলেন সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয় যানবাহনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আরও দুই লেন সড়ক। এতে প্রতি কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ১০৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এরই মধ্যে এই এক্সপ্রেসওয়ের সুফল পেতে শুরু করেছে দক্ষিণাঞ্চলবাসী।

দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের জন্য যাত্রাবাড়ি উড়াল সেতুর ঢাল থেকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া হয়ে পদ্মার দক্ষিণপারের মাদারীপুরের শিবচর থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত মোট ৫৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চারলেন বিশিষ্ট দেশের প্রথম এক্সপ্রেস ওয়ে প্রকল্প এটি।

এছাড়া এই সেতুকে ঘিরে ফরিদপুর থেকে মাদারীপুর হয়ে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা পর্যন্ত ফোরলেন রান্তা নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে চলছে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া।

রাজধানী ঢাকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ নিরাপদ, সময় সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এই সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সড়ক ব্যবহার করে মেট্রোরেল নির্মাণের পরকিল্পনার রয়েছে সরকারের।

এছাড়া মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় ইকোনোমিক জোন নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে মাদারীপুর এবং শিবচরে দুটি বিসিক শিল্প নগরীর নির্মাণ কাজ শুরু করেছে সরকার। মাদারীপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম তুষার ভুইয়া বলেন, ‘বেসরকারি উদ্যেগে বিভিন্ন কলকারখানা নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। এই

অঞ্চলে কর্মসংস্থান বাড়বে। কমবে বেকারত্ব। অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সোনালী দিনের স্বপ্ন দেখছে এসব প্রকল্প ঘিরে। তবে আমাদের এই অঞ্চলে গ্যাসের সংযোগ নেই। গ্যাসের সংযোগ না থাকলে কলকারখানা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে যেন গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়।’

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘এরই মধ্যে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের জন্যে ২০১২ থেকে এই পর্যন্ত নানা সময়ে প্রায় ৫ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কিছু প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কিছু প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। আগামীতে এসব প্রকল্প চলমান থাকলে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে মাদারীপুর। বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের চিত্র।’

মাদারীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী বলেন, ‘সেতুকে ঘিরে চলমান মেঘা প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক চিত্র বদলে যাবে। এখান থেকে মংলা বন্দর এবং পায়রা বন্দরের নিকটে হওয়ায় গড়ে উঠবে কলকারখানা। বাড়বে কর্মসংস্থান। ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্র।’

চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, ‘পদ্মা সেতু সংলগ্ন জনপদ শিবচরকে আমরা ঢাকার পাশের আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি। যেখান শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে। এখানে বসবাস করে মানুষ আধুনিক জীবনযাপন করতে পারবে। এটি গড়ে তোলা হবে সিঙ্গাপুরের আদলে।’

সূত্র রাইজিং বিডি

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD