ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গত দুই দিনে মারা যাওয়া তিনজনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ফরিদপুর করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে একজন ও নিজ বাড়িতে আরেকজন মারা যান। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান আরেকজন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে উপজেলার হামেরদী ইউনিয়নের ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তিনি স্ত্রী চার মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলেন। মৃত ব্যক্তির ভাই এক পুলিশ কর্মকর্তা। সম্প্রতি তাঁর করোনা শনাক্ত হওয়ায় তিনি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। কয়েক দিন ধরে ওই অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীও অসুস্থ থাকায় তাঁর করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে ফরিদপুর করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা। তিনি উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার করোনার উপসর্গ নিয়ে তিনি এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান ৭৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তাঁর বাড়ি উপজেলার নূরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের একটি গ্রামে। তিনি সবজি ব্যবসায়ী ছিলেন। ওই ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাইউম মোল্লা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ওই বৃদ্ধকে পরিবারের উদ্যোগে দাহ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা উপজেলা স্থাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা মোহসিন উদ্দিন ফকির জানান, মারা যাওয়া ওই তিনজনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। শুক্রবার সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের করোনা শনাক্তকরণ ল্যাব থেকে পরীক্ষার প্রতিবেদন আসে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এ পর্যন্ত ১৮৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত একজন মুক্তিযোদ্ধাসহ ছয়জন মারা গেছেন। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন নার্সসহ সুস্থ হয়েছেন ছয়জন।