মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

ভারতে ‘তেলাপোকা’র পর এবার ‘কাঁকড়া’ আন্দোলন

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

ভারতে ইথানল-মিশ্রিত পেট্রল (ই-২০) নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে নতুন সংগঠন ই-২০ জনতা পার্টি (ইজেপি)। মিম ও ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণাকে হাতিয়ার করে গড়ে ওঠা এই সংগঠনটি ইথানল নীতিতে আরো স্বচ্ছতা, ভোক্তার পছন্দের স্বাধীনতা এবং ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রল সরবরাহের দাবিতে প্রচারণা শুরু করেছে।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় আসা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ধাঁচেই নিজেদের প্রতীক হিসেবে ‘কাঁকড়া’ বেছে নিয়েছে ইজেপি। সংগঠনটির দাবি, অবিচারের বিরুদ্ধে কাঁকড়ার মতো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে তাদের আন্দোলন। গত ২৬ জুলাই এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত একাধিক পোস্টে সংগঠনটি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর পদত্যাগের দাবিও জানায়।

ইজেপির বক্তব্য, তারা ইথানল মিশ্রণের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করছে না এবং কোনো ধরনের ভর্তুকিও চাইছে না। তবে জ্বালানি নীতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ভোক্তাদের জন্য ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রলের বিকল্প রাখা এবং প্রতিটি জ্বালানিতে কী পরিমাণ ইথানল বা অন্য উপাদান মেশানো হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানানো বাধ্যতামূলক করার দাবি তুলেছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির খরচ, সুবিধা ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সরকারকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি মাইলেজ, ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা, দূষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের ওপর ইথানল মিশ্রণের প্রভাব যাচাই করতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গবেষণারও দাবি জানানো হয়েছে।

রোববার ভোরে সংগঠনটির প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত বাড়তে থাকে অনুসারীর সংখ্যা। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারী সংখ্যা দুই লাখের বেশি ছাড়িয়ে যায়। এক্সে অনুসারীর সংখ্যাও প্রায় ৩৫ হাজারে পৌঁছেছে। সংগঠনটির নেতৃত্বে কারা রয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে স্বেচ্ছাসেবক ও মুখপাত্র নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ইজেপির এক্স অ্যাকাউন্টটি ২০২১ সালের ডিসেম্বরে খোলা হলেও এর নাম ৫১ বার পরিবর্তন করা হয়েছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা বা মূল উদ্যোক্তাদের পরিচয়ও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ইথানল-মিশ্রিত পেট্রল নিয়ে বিতর্ক এরই মধ্যে দেশজুড়ে তীব্র হয়েছে। অনেক গাড়িচালক ও মালিকের অভিযোগ, ই-২০ ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমছে, ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

দুই সপ্তাহ আগে ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় স্বীকার করে, ই-২০ জ্বালানি ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে তারা জানায়, পেট্রলে ইথানল মেশানোর অর্থ এই নয় যে জ্বালানির দামও কমবে।

তবে সরকারের দাবি ভিন্ন। কেন্দ্রের মতে, ই-২০ জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে। সরকার আরো দাবি করেছে, নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর আগেই ভারত সফলভাবে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, নিতিন গডকড়ীর পরিবারের ইথানল-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক স্বার্থ থাকায় তিনি এই নীতির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। বিরোধীরা বিষয়টি সংসদে তোলার ঘোষণা দিয়েছে।

ইজেপির আবির্ভাবের পাশাপাশি একই দাবিতে একটি নাগরিক সংগঠন আগামী ৩১ জুলাই দিল্লিতে ‘গাড়ি মিছিল, গান্ধী মিছিল’-এর ডাক দিয়েছে। এছাড়া দিল্লির ট্যাক্সি ও পর্যটন পরিবহন সংগঠন ৪ আগস্ট ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তাদের প্রশ্ন, যখন ভোক্তারা পূর্ণমূল্যে পেট্রল কিনছেন, তখন বাধ্যতামূলকভাবে ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি কেন সরবরাহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ভারতে বিশুদ্ধ পেট্রলের পরিবর্তে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ই-২০’ বাধ্যতামূলক করার পর থেকে ভোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। মূল বিতর্কগুলো হলো মাইলেজ বা জ্বালানি দক্ষতা কমে যাওয়া, পুরনো গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি ও ক্ষয় হওয়ার আশঙ্কা, এবং সাধারণ মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পেট্রলের বিকল্প বা পছন্দের অভাব। এর দামও রাখা হয়েছে বিশুদ্ধ পেট্রলের সমান। এজন্য দেশজুড়ে আন্দোলন দানা বেধে উঠেছে।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD