চীন ও ভারতের মধ্যে চলমান সীমান্ত উত্তেজনার কমাতে সম্প্রতি দুই দেশ একমত হয়। সে অনুযায়ী উভয়দেশ সীমান্ত থেকে সেনা সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করে বলেও ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়। কিন্তু এর মধ্যেই চীন আবারো সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা ও ভারি অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করেছে বলে জানাচ্ছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা।
খবরে বলা হয়েছে, লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত গোটা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (সীমান্ত) অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে চীন। তাছাড়া হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশের নিয়ন্ত্রণরেখার কাছেও চীন বাড়তি সেনা ও ভারি অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করেছে।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে, শুধু লাদাখেই ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে চীন। সেইসঙ্গে দূরপাল্লার কামান ও ট্যাঙ্কও মোতায়েন করা হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে আবারো উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই বলছে, ভারতের পক্ষ থেকে ওই ভারি অস্ত্রশস্ত্র আগে সরানোর দাবি করা হয়েছে। নয়াদিল্লি মনে করছে, উত্তেজনা কমাতে হলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে আগে ভারি অস্ত্রশস্ত্র সরিয়ে নিতে হবে।
খবরে বলা হয়েছে, ভারত কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনার মাধ্যমে লাদাখে চীনের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে। গতকালও দুই দেশের সেনাবাহিনীর ডিভিশনাল কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে।
তবে ভারতের ক্ষমতাসীন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, লাদাখে সীমান্তে চীনা সেনাবাহিনী আসলে কী করছে তার প্রকৃত অবস্থা সরকার প্রকাশ করছে না। কারণ গতকালও দেশটির কোনো কোনো গণমাধ্যমে বলা হয়, চীনা সেনারা ভারতের ৮ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে। তার আগেও চীনা সেনাদের ভারতের অভ্যন্তরে ঢোকার খবর বের হয়। যা ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্বীকার করেও পরে তা প্রত্যাহার করেন।
বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী স্পষ্ট বলেছেন, লাদাখে চীনা সেনারা ভারতের জমি দখল করেছে। তবে বিজেপি সরকার তা স্পষ্টভাবে স্বীকার কিংবা অস্বীকার কিছুই করেনি।
লাইট নিউজ/আই