বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন

ভোমরা স্থলবন্দরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৪

বৈষম্যহীন নীতি অনুসরণে রাজস্ব আহরণের রেকর্ড তৈরি হয়েছে ভোমরা স্থলবন্দরে। দখল আর চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট বিলুপ্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফিরেছে প্রাণ চাঞ্চল্যতা, বেড়েছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫৩ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে ভোমরা বন্দরে।

ভোমরা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ভোমরা বন্দরে ৮৫৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের শুরুতে জুলাই মাসে রাজস্ব অর্জিত হয় ৬০ কোটি ৮৬ লাখ সাত হাজার ৫৫২
টাকা। এছাড়া আগস্ট মাসে ৮৮ কোটি ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ৮৩৩ টাকা, সেপ্টেম্বর মাসে ৪৭ কোটি ৯৯ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৭ টাকা, অক্টোবর মাসে ৬৫ কোটি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫১৪ টাকা, নভেম্বর মাসে ৭৯ কোটি ৬৬ লাখ ছয় হাজার ২৫৪ টাকা ও ডিসেম্বর মাসে ৫৪ কোটি ৩২ লাখ ৫২ হাজার
৬৪ টাকা। অর্থ বছরের শেষ ছয় মাসে অর্থাৎ ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ৪৮ কোটি ৮৪ লাখ ৯৫ হাজার ৮১৩ টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে ৬৩ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ২৬০ টাকা, মার্চ মাসে ১৬৬ কোটি ৪৮ লাখ ৭ হাজার ৪৬৩ টাকা, এপ্রিল মাসে ১১১ কোটি ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৩ টাকা, মে
মাসে ৬৯ কোটি ৬৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫১৩ টাকা এবং অর্থবছরের শেষ জুন মাসে ৫১ কোটি ৭৫ লাখ ৮৪ হাজার ৪৪৯টাকা রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।

ফলে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯০৭ কোটি ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৫ টাকা। যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৫ টাকা বেশি।

এদিকে বন্দরের আমদানি-রফতানি বানিজ্য বৃদ্ধি সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা জানান, বৈশ্বিক মন্দা আর ডলার সংকটের কারণে এলসি (ঋণপত্র) খুলতে না পারায় আমদানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে। তাছাড়া বিগত সময়ে সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের অর্থ ও
ক্ষমতালিপ্সু কথিত দখলবাজদের নিয়ন্ত্রণে ছিল ভোমরা বন্দর। এমন কোনো ক্ষেত্র ছিল না – যেখানে নৈরাজ্যের ছায়া পড়েনি। ফলে চাঁদাবাজদের প্রভাব বিস্তারে অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা বন্দর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যেও আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সচল রেখেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।

ভোমরা কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মতলেবুর রহমান জানান, অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রশাসন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করার সুযোগ না থাকায় বন্দরে তৈরি হয়েছে ব্যবসাবান্ধব অনুকূল পরিবেশ। ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছতার নিরিখে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য পরিচালনা করায় বৃদ্ধি পেয়েছে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD