মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন

মহামারীতে মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০

গেল কয়েক মাসব্যাপী চলমান করোনভাইরাস মহামারীর প্রভাব আমাদের চারপাশে বিদ্যমান। চাকরি হারানো এবং বেশিরভাগ সময় বাড়িতে থাকার কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। সাধারণভাবেই এগুলোর ফলে মানসিক স্বাস্থ্যর অবনতি হচ্ছে। কোভিড-১৯ এ স্বাস্থ্যে সংকটের প্রভাব প্রত্যেকর মনে স্থায়ীভাবে স্পষ্ট এবং এটি উদ্বেগেরও কারণ। ফিট থাকার এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যেমন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, ঠিক তেমনি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও একই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২০ উপলক্ষে, ভারতীয় প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং পোদ্দার ফাউন্ডেশনের এমডি ডা. প্রকৃতি পোদ্দারের পরামর্শ তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন- মহামারী আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের যেভাবেই প্রভাব ফেলে তা মোকাবিলা করা নির্ভর করে দক্ষতার উপরে।

করোনাভাইরাস আমাদের জীবনে এমনভাবে প্রবেশ করেছে যা অনুধাবন করা যায় না। মহামারীজনিত চাপ, বিচ্ছিন্নতা, অনিশ্চয়তা মানসিক অবসন্নতার কারণ হতে পারে। উদ্বেগ মানসিক স্বাস্থ্যর জন্য সবচেয়ে বেশি বিপদজ্জনক। অদূর ভবিষ্যতের জন্য সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চাপ মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলছেন ডা. প্রকৃতি পোদ্দার।

তিনি আরও বলেন, চাকরি থেকে ছাঁটাই, বেতন কর্তন, কাজের চাপ বৃদ্ধি, বিচ্ছিন্নতা, অনিশ্চয়তা এবং প্রতিদিনের রুটিনে বিঘ্ন এই চলমান সংকটের মাঝে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। অদূর ভবিষ্যতেও এর কোন শেষ নেই! তাই স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

ব্যবসা, অফিস এবং সংস্থাগুলি ধীরে ধীরে আরও একবার দাঁড়ানোর রাস্তা খুঁজছে। যদিও এটি অর্থনীতি এবং কর্মক্ষেত্রের জন্য সুসংবাদ কিন্তু তা যদি ভুলভাবে পরিচালিত হয় তবে মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে, বেশিরভাগ লোকেরা ঘুম থেকে উঠে কয়েক পা হাঁটেন এবং কাজ করতে বসে যান। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী এই অস্বাস্থ্যকর উপায়ে কাজ ব্যক্তিগত এবং কর্মজীবনে ব্যাপক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। ওর্য়াক ফ্রম হোমের জন্য একটি কঠোর রুটিন তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাড়িতে বসে কাজের জন্য একটি পৃথক ওয়ার্কস্পেস তৈরি করুন এবং আপনার কাজের সময়গুলি পরিষ্কারভাবে সংজ্ঞায়িত করুন। আপনার সহকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রেও সময় নির্ধারণ করুন এবং এটি নিশ্চিত করুন তা যেন আপনার ব্যক্তিগত সময়ে প্রভাব না ফেলে।

ডা প্রকৃতি পোদ্দারের পরামর্শ- বৈশ্বিক এই বিপর্যয়ের সময়ে আপনার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সহকর্মীদের সাথে ভিডিও চ্যাট, ফোন কল, টেক্সট বার্তা এবং ই-মেইলের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। তবে অতিমাত্রায় ডিজিটালাইজেশনের বিপদও রয়েছে। সুতরাং এটার জন্যও নিদিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন।

প্রতিটি সমস্যার সমাধান দেখা যায় আশার আলোর রেখার মাধ্যমে। প্রথমত, মনে রাখবেন যে আপনি যা করছেন তা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। মানসিক চাপের এবং মানসিক লক্ষণগুলি চিহ্নিত করার জন্য কাজ করুন। সাধারণত সংবেদনশীল লক্ষণগুলির মধ্যে বিরক্তি, ক্রোধ, ভয়, দুঃখ এবং ক্লান্তি অন্তর্ভুক্ত। মানসিক লক্ষণগুলির মধ্যে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, ফোকাসের অভাব, অনিবার্যতা, বিশৃঙ্খলা এবং বিভ্রান্তি অন্তর্ভুক্ত।

যদি এই শব্দগুলি পরিচিত হয়, তবে নিজেকে শান্ত রাখতে আপনার প্রতিদিনের রুটিনে শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘুমান। তবে হুট করে জীবনযাত্রা পরিবর্তন আনবেন না।

যদি বাইরে অনুশীলন করার কোনও বিকল্প না থাকে তবে বাড়ির মধ্যে দঁড়িতে লাফানো একটি দুর্দান্ত উপায় হতে পারে। প্রতিদিন ১০ মিনিটের জন্য অনুশীলন করার চেষ্টা করুন। যদি বুঝতে পারেন যে এটি আপনার দোষ নয় এবং এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যদি আপনি ব্যক্তিগতভাবে কোনও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এর সাথে দেখা করতে না পারেন, তবে অনলাইনে পরামর্শ নিন।

লাইটনিউজ

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD