শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
লিবিয়ার জিম্মিদশায় ১১৯ মাফিয়ার মানব পাচার নেটওয়ার্ক মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট লাগানো নিয়ে সময়সীমা বেঁধে দিল বিআরটিএ দেশের ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মেডিকেল ট্যুরিজমে থাইল্যান্ডে চমক সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা সোলায়মান মার্কিন অভিযানের তথ্য ফাঁসকারীদের গুলি করে হত্যা করা উচিত: ট্রাম্প ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ জনের মৃত্যু সৌদিগামী ১০৩ ফ্লাইট বাতিল, আটকা সাড়ে ১৫ হাজার যাত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব :স্বাস্থ্যমন্ত্রী আইএমএফের ঋণে শর্ত থাকবে, তা পূরণ করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

মাস্ক পরায় অনীহা, জরিমানা বাড়ছে

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

লাইট নিউজ ডেস্ক : করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে মাস্ক পরতে এবং অন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে জনগণকে চলাচলের কথা বলছে সরকার। তবে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হলেও মাস্ক পরার দিকে জোর দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি মাস্ক না পরলে সংক্রমণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী রাজধানীসহ সারাদেশে জরিমানা করছে আইনশৃঙ্খলার সদস্যরা। জরিমানা পরেও এখন রাস্তাঘাটে অনেক মানুষ মাস্ক পরছেন না। মানুষের মাঝে মাস্ক পরার অনীহার কারণে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দিন দিন জরিমানা বাড়ছে।

মাস্ক পরা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা বলেন, মাস্ক না পরে বা অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বাইরে চলাচল করলে ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে। অবশ্য ঘোষণায় এই আইন জেলা প্রশাসক ও যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সতর্কতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

শীতের মৌসুমে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। এখন মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক সরকারি ঘোষণা বাস্তবায়নে কঠোর হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, আদালত এমনকি থানায় মাস্ক ছাড়া গেলেও সেবা দেওয়া হবে না। ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’। গত ৪ নভেম্বর কোভিড-১৯ সংক্রমণের সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান এবং মাঠ পর্যায়ে সবাইকে মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় ধর্মী উপসানালয়ে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক ঘোষণা দিয়েছে। পুলিশ এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করছে।

মাস্ক না পরায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জরিমানা করা হয়েছে। ১৫ জন নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। এছাড়া হতদরিদ্র মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকানোর লক্ষ্যে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেয়ার পর নগরীর কোর্ট ও সচিবালয় এলাকা, মতিঝিল, হাতিরঝিল, উত্তরার আজমপুর, খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন স্থানে এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। মাস্ক না পরায় জরিমানা করা হয়।

আরো পড়ুন : প্রবাসীদের জন্য আলাদা আদালতের দাবি জানালেন ব্যারিস্টার সুমন

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় মাস্ক ছাড়া ঘোরাঘুরি করায় শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) ১১৭ জনকে ১৮ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলমগীর, মিজানুর রহমান, আশরাফুল আলম, মো. উমর ফারুক এবং গালিব চৌধুরী। পিরোজপুর, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা ও ফেনীতে মাস্ক না পরায় ২৭২ জনকে জরিমনা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এভাবেই সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে মাস্ক না পরায় জরিমানা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম পর্যটন এলাকা পতেঙ্কায় মাস্ক ছাড়া চলাচলে জরিমানা করার পাশাপাশি চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে বিনামূল্য মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। পতেঙ্গা বিচ এলাকার ৬টি বুথে ৫০০০ মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনা প্রতিরোধে কার্যকরি ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বিশ্বজুড়ে চেষ্টা চলছে। তবে করোনা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য সংস্থা মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বাংলাদেশেও জনস্বাস্থ্যবিদ থেকে শুরু করে সরকার এ কথা বলে আসছেন। তবে গত নয় মাসের মধ্যে জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেও তারপর থেকেই এতে অনাগ্রহ তৈরি হয় সর্বসাধারণের। এতে সরকার ফের কঠোর হয়েছে। বাড়ির বাইরে মানুষ বের হলে মাস্ক পরতে হবে।

কোভিড-১৯ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টেকনিক্যাল প্রধান বিশেষজ্ঞ ড. মারিয়া ফন কেরকোভে বলেন, জনগণকে মাস্ক পরতে উৎসাহ দিতে সরকারগুলোকে পরামর্শ দিচ্ছি। তবে মাস্ব পরলেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ দুর হবে তা নয়।

রাজধানীর বাইরের চিত্র বেশি ভয়াবহ। কেউই স্বাস্থ্যবিধির কোনও তোয়াক্কা করছেন না। সবাই করোনার আগের সময়ের মতো জীবনযাপন করছেন। সভা, সেমিনার, বাজার, খেলার মাঠ কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠান কোথাও সচেতনতামূলক মাস্কের ব্যবহার নেই। অথচ আজ শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ৭৭২ জনে দাঁড়াল। নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ২৫২ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৯৯১ জন হল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ৫৭২ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ৯০ হাজার ৯৫১ জন হয়েছে।

আরো পড়ুন : দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ফাইজারের টিকার অনুমোদন দিল বাহরাইন

নীলফামারির বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম মাস্ক ছাড়াই বাজারে এসেছেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের শুরুর দিকে কয়েক দিন মাস্ক ব্যবহার করে ছিলেন। এরপর আর মাস্ক ব্যবহার করেননি। যে মারা যাবে সে মাস্ক পরলেও মারা যাবে, না পরলেও মারা যাবে। দিনাজপুরেও মাস্কের ব্যবহার নেই। আবার কারও মুখে থাকলেও তা রয়েছে থুতনির নিচে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, করোনা সংক্রামণ শুরু হওয়ার পর থেকে পুলিশ নাগরিকদের সচেতনতায় কাজ করছে। নাগরিকদের খাদ্যসহায়তা, মাস্ক পরিধান, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের দাফনসহ সব সহযোগিতাই করেছে। এটি চলমান রয়েছে। সরকার নতুন করে মাস্ক পরার যে নির্দেশনা দিয়েছে তার পুরোপুরি বাস্তবায়নে কাজ করবে পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তরের আইজিপি সোহেল রানা বলেন, নাগরিকদের মাস্ক পরার সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সারাদেশের পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নো মাস্ক, নো সার্ভিস।

লাইট নিউজ

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD