ঈদের পর দুই সপ্তাহে রাজশাহীর বাজারে হঠাৎ করেই কয়েক দফা বেড়েছে চালের দাম। পাইকারি বাজারে মোটা-চিকন সব ধরনের চালের দামই ঊর্ধ্বমুখী। খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। ফলে খুচরা বাজারে কেজি প্রতি ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে চালের দাম।
ক্রেতাদের অভিযোগ ব্যবসায়ীদের কারসাজি ও বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে হঠাৎ করে চালের দাম বেড়েছে।
তবে ব্যবসায়ীদের দাবি- মিল মালিকরা ধান কিনে মজুত করায় চালের দাম বাড়ছে। তাদের কারসাজিতেই চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে পাইকারি কিংবা খুচরা ব্যবসায়ীদের তেমন হাত নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরেই রাজশাহীর চালের বাজার চড়া। শনিবার (১৫ আগস্ট) নগরীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, কোনো কোনো চালের দাম বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আবার কোনো কোনো চালের চাহিদা থাকলেও এখনো বাজারে নেই সরবরাহ। ব্যবসায়ীরা বলছেন- মিল মালিকরা এসব চাল বাজারে ছাড়ছেন না।
বাজারে স্বর্ণা চাল বস্তাপ্রতি বেড়েছে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। কিছুদিন আগেও স্বর্ণা ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। তবে এখন আর সেই দামে স্বর্ণা পাওয়া যাচ্ছে না। এই চালের দাম বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা।
দাম বেড়েছে গুঁটিস্বর্ণারও। আগে গুঁটিস্বর্ণার দাম ছিল বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। তবে এখন দাম বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩০০ টাকা।
দাম বেড়েছে মিনিকেট চালেরও। বস্তাপ্রতি মিনিকেট চালের দাম ছিলো ২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে এখন ১১০ টাকা দাম বেড়ে বস্তাপ্রতি হয়েছে ২ হাজার ৬০০ টাকা। খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে ৩ টাকা করে। আগে ৫৩ টাকা থাকলেও এখন ৫৬ টাকায় মিনিকেট চাল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
বাড়তি দাম কাটারি, কাটারিভোগ এবং আটাশ চালেরও। কাটারি চাল বস্তাপ্রতি ২ হাজার টাকা থাকলেও এখন ২ হাজার ২৫০ টাকা হয়েছে। তেমনি বাড়তি দাম হয়েছে কাটারিভোগ চালেরও। কাটারিভোগ চাল আগে ৪ হাজার ৩০০ টাকা থাকলেও দাম বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। খুচরা বাজারে কেজি প্রতি কাটারিভোগ চালের দাম বেড়েছে ২ টাকা। আগে ৭৩ টাকা থাকলেও এখন ৭৫ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।
আটাশ চালের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা করে। পাইকারি বাজারে আটাশ চাল বস্তাপ্রতি ২ হাজার ৪০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে কিছুদিন আগেও দাম ছিলো ২ হাজার ২০০ টাকা। খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ২ টাকা করে দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা।
কেজিতে ২ টাকা করে দাম বেড়েছে বাসমতি ও মোটা আতপ চালের। বাসমতি এখন ৬০ টাকায় এবং আতপ চাল ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এখনও আগের দাম ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে নাজিরশাইল ও বালাম চাল। তবে বাজারে চাহিদা থাকলেও এলসি এবং পারিজা চালের সরবরাহ নেই।
নগরীর সাহেব বাজারে চাল কিনতে আসা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি নিয়মিত চাল কিনে খাই। ঈদের পর সব চালেরই দাম বেড়েছে। অথচ শুনেছিলাম ঈদের পর দাম কমবে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের পর থেকে বাজারে কোনো মনিটরিং নেই। ফলে ব্যবসায়ী, আড়তদার ও মিল মালিকরা ইচ্ছেমতো চালের দাম বাড়াচ্ছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। এজন্য মিলের গুদামগুলোর দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
নগরীর আহমেদ রাইস এজেন্সির মালিক রাজু আহমেদ বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার কারণে অনেক ধান নষ্ট হয়েছে। তাছাড়া অনেকেই এখন চাল মজুত করে রেখেছেন। এইসব কারণেই মূলত চালের দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে চালের দাম কবে কমবে এটা এখনও বলা যাচ্ছে না। তবে পাইকারি বাজারে দাম কমলেই খুচরা বাজারেও কমে যাবে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, ‘বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে না, বিষয়টি সঠিক নয়। ব্যবসায়ীরা আমাদের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন- বন্যার কারণে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে আমরা আরও শক্তভাবে বাজার মনিটরিংয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি। যদি কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
লাইট নিউজ