শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ন

যাদের জুমার নামাজের কোনো সওয়াব নেই

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

জুমার নামাজের অনেক গুরুত্ব ও ফজিলত থাকা সত্ত্বেও অনেকের জুমার নামাজ কোনো কাজে আসবে না বলে সাবধান করা হয়েছে হাদিসে। তারা হচ্ছেন মূলত জুমার আদব লঙ্ঘনকারী।

জুমার দিনের আদব হলো— আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সুন্দরভাবে নিঃশব্দে মসজিদে গিয়ে যেখানে জায়গা থাকবে সেখানে অবস্থান নেওয়া; সময় থাকলে সুন্নাত নামাজ পড়া এবং কাউকে কষ্ট না দিয়ে, কারও ঘাড় টপকে সামনে না গিয়ে চুপচাপ ইমামের খুতবা শোনা এবং নামাজ পড়া। কিন্তু যারা এর ব্যতিক্রম করবে; তাদের নামাজ হবে অর্থহীন। হাদিসে পাকের একাধিক বর্ণনায় তা উঠে এসেছে।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘জুমার সালাতে তিন ধরনের লোক হাজির হয়। এক শ্রেণির লোক জুমায় উপস্থিত হয়ে অনর্থক কথা ও কাজে লিপ্ত হয়। সে তার আমল অনুসারেই তার অংশ পাবে। দ্বিতীয় আরেক ধরনের লোক আছে যারা জুমায় হাজির হয় সেখানে দোয়া মোনাজাত করে, ফলে আল্লাহ যাকে চান তাকে কিছু দেন আর যাকে ইচ্ছা দেন না। তৃতীয় প্রকার লোক হলো যারা জুমায় হাজির হয়, চুপচাপ থাকে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে, কারও ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে আগায় না, কাউকে কষ্ট দেয় না, তার দুই জুমার মধ্যবর্তী ৭ দিনসহ আরও তিন দিন যোগ করে মোট দশ দিনের গুনাহ খাতা আল্লাহ তাআলা মাফ করে দেন।’ (আবু দাউদ: ১১১৩)

উল্লেখি হাদিস অনুযায়ী, তামাশাকারীরা বিনিময়ে তামাশাই পাবে। ইমামের খুতবার সময় কথাবার্তা বলা, মুসল্লিদের টপকে সামনে আগানো খুবই অপছন্দনীয়। তারা জুমা থেকে ফায়দা নিতে পারে না। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিতি হাদিসে প্রিয়নবী (স.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিনে ইমামের খুতবার সময় কথা বলে, সে যেন পুস্তক বহনকারী গাধার মতো! অন্যত্র তিনি শুনেছেন— তার কোনো জুমা নেই (অর্থাৎ তার জুমা বরবাদ হলো) (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ২/১৮৪, হাদিস: ৩১২৩, ৩১২৫)

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করে, সুগন্ধি থাকলে তা ব্যবহার করে, জুমার নামাজে আসে এবং অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না যায়, নির্ধারিত নামাজ আদায় করে, ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর থেকে সালাম পর্যন্ত চুপ করে থাকে তার এই আমল আগের জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত সব ছোট পাপ মোচন হবে।’ (আবু দাউদ: ৩৪৩)

মুসলমানদের জন্য জুমার দিন হচ্ছে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনটি বিশেষ আমল করার ও ফজিলত অর্জনের দিন। এই দিনকে সাপ্তাহিক ঈদ বলা হয়েছে হাদিসে। ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিনের জন্য জুমার দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন।’ (ইবনে মাজাহ: ১০৯৮)

তাই মুসল্লিদের জন্য মনোযোগ ও গুরুত্বের সঙ্গে জুমার আদব রক্ষা করা উচিত। পাশে কেউ কথা বললে তাকে ‘চুপ করো’ বলতেও নিষেধাজ্ঞা এসেছে হাদিসে। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, জুমার দিন খুতবা চলা অবস্থায় যদি তোমার পাশের সাথীকে বলো— চুপ করো, তাহলে তুমি একটি অনর্থক কাজ করলে। (সহিহ বুখারি: ৯৩৪, সহিহ মুসলিম: ৯৩১)
একইভাবে খুতবার সময় দানবাক্স চালানো অনর্থক ও গুনাহর কাজ বলে বিবেচিত হবে। ফতোয়ার কিতাবে এসেছে, খুতবার সময় বাক্স চালানো নিষিদ্ধ; নিষিদ্ধ কাজে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হওয়াও নিষিদ্ধ। (হেদায়া: ১/২৩১-২৩২, আদ্দুররুল মুখতার: ৬/৩৬০, ফতোয়ায়ে দারুল উলুম: ৫/১২১, ফতোয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত: ৪/৪০১)

সুতরাং মুসলমানের উচিত, জুমার দিন নামাজ পড়তে গিয়ে যথাযথ আদব রক্ষা করে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিশ্চুপ থাকা, ইমামের খুতবা শোনা এবং জুমার নামাজ পড়া। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হাদিসের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী খুতবা শোনার এবং নামাজ পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD