বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০১ অপরাহ্ন

প্রতি পাঁচজনে একজন মডি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

দেশে তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে একটি বিশেষ ধরনের ডায়াবেটিসের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সন্দেহভাজন তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতি পাঁচজনে একজন ম্যাচিউরিটি অনসেট ডায়াবেটিস ইন ইয়াং (মডি) নামের বিশেষ ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিএমইউর শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত ডিসেমিনেশন অব পাবলিশড পিএইচডি রিসার্চ অব ডা. মাশফিকুল হাসান শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী তরুণ রোগীদের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু জিনে পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে, যা মডি ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

গবেষকরা জানান, এসব জিনগত পরিবর্তন তুলনামূলক কম পরিচিত জিনে পাওয়া গেছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর গবেষণার সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি সবসময় কার্যকর নাও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, মডি ডায়াবেটিস না টাইপ-১, না টাইপ-২—এটি আলাদা একটি ধরন। তবে জিনগত পরিবর্তন আছে কি না, তা ক্লিনিক্যালি শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এর ফলে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা ব্যাহত হতে পারে।

গবেষণাটি প্রাথমিক ও অনুসন্ধানমূলক উল্লেখ করে তারা বলেন, চিকিৎসায় প্রয়োগের আগে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। তবে এ ফল দেশে ডায়াবেটিসের জিনগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয় এবং ভবিষ্যতে দেশভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, দেশে জেনেটিক্যাল গবেষণা পরিচালনা করা অত্যন্ত জটিল হলেও রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এ ধরনের গবেষণা বাড়ানো জরুরি। অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ হাসানাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গবেষক ডা. মাশফিকুল হাসান, অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ এবং ডা. মোহাম্মদ সলিমুল্লাহসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেন।

বক্তারা জানান, তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা প্রচলিত শ্রেণিবিন্যাসে পড়ে না। ‘মডি’ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে কখনো ওষুধেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, আবার কখনো ওষুধের প্রয়োজনও পড়ে না। তাই সঠিকভাবে রোগটি শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আরও বলেন, গবেষণালব্ধ তথ্য চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উন্নত রোগীসেবা নিশ্চিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

জানা গেছে, গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি কিউ-১ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা এর বৈশ্বিক গুরুত্ব নির্দেশ করে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD