যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে ইরান। তারা মার্কিন সেনাদের কার্যক্রমকে সশস্ত্র জলদস্যুতা হিসেবে অভিহিত করেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিবিসি ও ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড ইউনিট ‘খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হাতে দেশটির কন্টেইনার জাহাজ আটকের ঘটনায় প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। তারা এটাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে।
এদিকে প্রতিশোধের হুমকির পর ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জাহাজে ড্রোন হামলা করেছে ইরান। তবে এই ড্রোন হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
গণমাধ্যমমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ওমান উপসাগর থেকে ইরানের পতাকাবাহী একটি কন্টেইনার জাহাজ মার্কিন নৌবাহিনী জব্দ করার পর এই ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড ইউনিট ‘খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর এই অভিযানকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছিল।
এরপর ইরানি সেনারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিল, মার্কিন নৌবাহিনীর এই “সশস্ত্র জলদস্যুতার” কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও প্রস্তুত থাকলেও ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ এখনই উঠছে না। ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত এই অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন ১০০ ভাগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।
আলজাজিরার প্রতিবেদক অ্যালান ফিশার এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা কখনোই খুব বেশি ছিল না। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, এটি ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার একটি কার্যকর উপায়।