চলমান যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কূতনৈতিকভাবে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে ইরানি জনগেণের অধিকার রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে ফোনালাপে এসব কথা বলেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতির বরাতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
আলোচনার মধ্যে হামলার কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের কোনো বিশ্বাস নাই বলে উল্লেখ করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা যখন চলমান তখন ইরানে দুবার হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপকে ইরানকে ‘পেছন থেকে ছুরি মারা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একটি বিশেষ মিশনের পরিকল্পনা করছে দেশটি। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বুধবার (৬ মে) ফ্রান্স তার শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরি বহর বা ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ লোহিত সাগরে মোতায়েন করেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের জেরে এই পথে অবরোধ আরোপ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পণ্যের সংকট তীব্র হচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই অবরোধের ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির যে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, তা আর দীর্ঘ হতে দেওয়া যায় না। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে এবং জলপথটিকে নিরাপদ করতে ফ্রান্স একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি ভেবে দেখার জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত চার সপ্তাহ ধরে একটি নামমাত্র যুদ্ধবিরতি চললেও গত সোমবার নতুন করে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এই ঘটনা লোহিত সাগর ও হরমুজ এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ফ্রান্স মনে করছে, এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ফরাসি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের রণতরি বহরটি যে কোনো জরুরি মিশনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের একগুঁয়েমির কারণে সৃষ্ট অবরোধ থেকে বিশ্ব বাণিজ্যকে মুক্ত করাই ফ্রান্সের বর্তমান লক্ষ্য।