মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক সংঘাত আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, পরিস্থিতির অবনতি হলে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির কৌশলগত স্বার্থ জড়িত থাকায় বাংলাদেশকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে বলেও মত দেন তারা।
দীর্ঘ বিরতির পর গত কয়েক দিনে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত। মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা জোরদার করেছে দেশটির জান্তা বাহিনী। সীমান্তের ওপার থেকে ভেসে আসা বিস্ফোরণের শব্দ ও কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে রাখাইনে আরাকান আর্মি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে জান্তা বাহিনীর দ্রুত সামরিক সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা খুবই কম। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিকভাবে স্পর্শকাতর এই অঞ্চলের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে একদিকে যেমন কৌশলী অবস্থান নিতে হবে, অন্যদিকে তেমনি কূটনৈতিক তৎপরতাও আরও বাড়াতে হবে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পরাশক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্ক বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশকে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।
তবে নতুন করে শরণার্থী সংকটের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে না দিলেও, সেটি ২০১৭ সালের মতো ব্যাপক আকার ধারণ করবে না বলে মনে করছেন তারা। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, নাফ নদীর ওপারের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটবে এবং রাখাইনে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথও তৈরি হবে।