ডাক্তার পদবী ব্যবহার করে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চোখের চিকিৎসা করে আসছেন। ডাক্তারি পাস তো দূরের কথা, পড়া-লেখার দৌড় সবে এইচএসসি। তাতেই চক্ষু বিশেষজ্ঞ তকমা লাগিয়ে দিব্যি চিকিৎসা করে আসছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ধরা খেলেন র্যাবের অভিযানে। সেই সঙ্গে বেরিয়ে এলো হাড়ির খবর।
শুক্রবার(১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে নাটোরের বাগাতিপাড়ার দয়ারামপুর বাজার থেকে আশরাফুল ইসলাম নামের ভুয়া চিকিৎসককে আটক করে র্যাব।
র্যাব ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আশরাফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়রামপুর বাজারে রোগী দেখেন। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ওই বাজারে তিনি চিকিৎসা দিচ্ছেন। বাজারের ‘কেয়া চশমা ঘর’ নামের একটি দোকানে বসে তিনি তার কর্মযজ্ঞ চালান। সেখানে সাইনবোর্ডে তিনি নামের আগে ডা. পদবী ব্যবহার করেন এবং নাটোর জেলার গুরুদাসপুর চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ইনচার্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিষয়টি র্যাবের নজরে এলে শুক্রবার র্যাব-৫ এর সিপিসি-২ এর এএসপি মাসুদ পারভেজের নেতৃত্বে ওই বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। সেখানে কেয়া চশমা ঘর থেকে আশরাফুল ইসলামকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে কেয়া চশমা ঘর এর স্বত্ত্বাধিকারী আক্কাস আলীকেও আটক করে র্যাব।
আটকের পর তাদেরকে র্যাব পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে এমবিবিএস না হয়েও ডাক্তার পদবী ব্যবহার এবং ১৩ বছর ধরে ব্যবস্থাপত্রসহ চোখের চিকিৎসা দেওয়ার দায়ে আশরাফুল ইসলামকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এছাড়াও এমবিবিএস ডিগ্রীধারী না হওয়ার বিয়টি জেনেও দোকানের বিক্রি ও ব্যবস্থাপনার স্বার্থে ভুয়া চিকিৎককে দোকানে বসিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অপরাধে চশমা ঘরের স্বত্তাধিকারী আক্কাস আলীকে ৭৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তবে আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে দাবি করে জানান, তিনি এইচএসসি পাসের পর এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেছেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমান বলেন, ‘মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ অনুযায়ী ভুয়া ডাক্তার আশরাফুল ইসলামকে এবং ভোক্তা অধিকার আইন-২০০৯ অনুযায়ী চশমার দোকান মালিককে সাজা দেওয়া হয়েছে।’
লাইটনিউজ