মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শতাব্দীর প্রাচীনতম প্রতিরক্ষা মিনার প্রবাসীদের জরুরি নির্দেশনা দিল ওমানের বাংলাদেশ দূতাবাস রাষ্ট্রপতি সিলেট যাচ্ছেন আজ, ব্যাপক প্রস্তুতি নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় আর হামলা চালাবে না রাশিয়া-ইউক্রেন: ট্রাম্প তেলের মজুত ফুরানোর শঙ্কায় সৌদি, বিশ্ব জুড়ে বড় ঝুঁকি ব্রাজিল দলে নেইমার অধ্যায়ের সমাপ্তি নিশ্চিত করলেন আনচেলত্তি বিদেশে ১ পয়সা বিনিয়োগের প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দিবো: আসিফ মাহমুদ আগামী শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ভর্তিতে আসছে বড় পরিবর্তন ইয়েমেনের তেল-গ্যাসসমৃদ্ধ প্রদেশের দিকে এগোচ্ছে হুথিরা ব্যাংকিং খাতের মতো বিমা খাতেও বিশাল অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

শতাব্দীর প্রাচীনতম প্রতিরক্ষা মিনার

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সৌদি আরবের নাজদ অঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর আল-মাজমাআহ। শহরটির পশ্চিমে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে মুনিখ পর্বত। আর সেই পর্বতের চূড়ায় আজও টিকে আছে একটি প্রাচীন প্রহরী মিনার—যা একসময় ছিল শহরবাসীর নিরাপত্তার জন্য সতর্ক প্রহরী। সময়ের পরিবর্তনে এর সামরিক ভূমিকা হারিয়ে গেলেও ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে মুনিখ লুকআউট এখনো বহন করছে আল-মাজমাআর বহু পুরোনো দিনের স্মৃতি।

প্রাকৃতিক ভূপ্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রাচীন নাজদি স্থাপত্যের অসাধারণ নিদর্শন এই প্রহরী মিনার। উঁচু পাহাড়ের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে শহরের আশপাশে মানুষের চলাচল, কাফেলার গতিবিধি এবং সম্ভাব্য বিপদের ওপর নজর রাখার জন্য এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মুনিখ পর্বতের ওপর নির্মিত এই প্রহরী স্থাপনাটি আশপাশের ভূমি থেকে প্রায় ২৫ মিটার উঁচুতে অবস্থান করছে। ফলে এখান থেকে আল-মাজমাআহ শহর ও এর চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হতো। দুর্গপ্রাচীর বরাবর নির্মিত সরু প্রবেশপথ ও পর্যবেক্ষণ-ছিদ্রগুলো প্রহরীদের বিভিন্ন দিকের গতিবিধি নজরে রাখার সুযোগ দিত।

ঐতিহাসিক নথিপত্র থেকে ধারণা করা হয়, এই প্রহরী মিনারের সূচনা হিজরি নবম শতাব্দীর তৃতীয় দশকে, অর্থাত্ খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীতে। তখন নাজদ অঞ্চলের বিভিন্ন জনপদে নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষার জন্য পাহাড়চূড়ায় এমন পর্যবেক্ষণকেন্দ্র নির্মাণের প্রচলন ছিল। প্রাচীনকালে প্রহরী মিনার ছিল পর্যবেক্ষণ ও যোগাযোগব্যবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে এ ধরনের স্থাপনার জন্য পর্যবেক্ষণকেন্দ্র, মিনার, দুর্গ কিংবা সুবিধাজনক নজরদারি স্থানসহ নানা নাম ব্যবহারের কথা জানা যায়।

সন্ধ্যার পর শহরের ফটক বন্ধ হয়ে গেলেও পাহাড়চূড়ার প্রহরীদের দায়িত্ব শেষ হতো না। তারা রাতেও সতর্ক থাকতেন। কোনো বিপদের আশঙ্কা দেখা দিলে আগুন জ্বালিয়ে দূরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো হতো। এভাবে প্রহরী মিনারটি ছিল তত্কালীন যোগাযোগ ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সৌদি আরবের একত্রীকরণ এবং বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পর অবশ্য এর সামরিক গুরুত্ব ধীরে ধীরে কমে আসে। পরবর্তী সময়ে মুনিখ লুকআউট থেকে বাণিজ্য কাফেলা, ভ্রমণকারী, গবাদিপশু ও বন্যার মতো বিষয় পর্যবেক্ষণের স্মৃতিও স্থানীয় ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে।

পাহাড়ের গা ঘেঁষে থাকা প্রাচীরের অংশ পাথর দিয়ে নির্মিত হয়েছিল। এর ভিত্তি ছিল অপেক্ষাকৃত মোটা, আর ওপরের দিকে যেতে যেতে প্রাচীর সরু হয়েছে। পাহাড়ের কিনারার বাঁক অনুসরণ করে নির্মিত হওয়ায় দুর্গপ্রাচীরটি একই সঙ্গে স্থাপত্যিক সৌন্দর্য ও প্রতিরক্ষার কার্যকারিতা বহন করত। প্রাচীর ও মিনারে কৌশলগতভাবে তৈরি করা হয়েছিল ছোট ছোট ছিদ্রপথ। এগুলো দিয়ে প্রহরীরা নিচের এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে পারতেন এবং প্রয়োজন হলে সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারতেন।

মুনিখ লুকআউটের প্রধান মিনারটির উচ্চতা প্রায় ১২ মিটার। এর পরিধি ওপরের দিকে ধীরে ধীরে কমে এসেছে। মিনারটি সরাসরি পাহাড়ের পাথুরে পৃষ্ঠের ওপর নির্মাণ করা হয়। ভিত্তিতে পাথর এবং ওপরের কাঠামো নির্মাণে কাদামাটির ইট ব্যবহার করা হয়েছিল।
মিনারটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর দ্বিস্তরীয় নলাকার কাঠামো। মিনারের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন আকারের পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরক্ষামূলক ছিদ্র রয়েছে।

এর মধ্যে পাঁচটি বিশেষ গর্ত বা খোলা অংশ ছিল, যেগুলো দিয়ে মিনারের নিচের অংশ পর্যবেক্ষণ ও সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হতো। চারটি ছিল মিনারের পাশের অংশের প্রতিরক্ষার জন্য এবং পঞ্চমটি ছিল প্রবেশপথের ওপর, যাতে নিচ থেকে কেউ এগিয়ে এলে তাকে নজরে রাখা যায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুনিখ লুকআউট ও এর আশপাশের ঐতিহাসিক স্থাপনার সংরক্ষণ, নথিভুক্তকরণ ও উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। ধসে পড়া অংশ পুনর্নিমাণ, দুর্গপ্রাচীর ও মিনারের বিভিন্ন অংশ সংরক্ষণ, পাহাড়ের চূড়ায় দর্শনার্থীদের চলাচলের ব্যবস্থা, পাথরের সিঁড়ি ও পথ নির্মাণ, আলোকসজ্জা এবং দিকনির্দেশক সাইন স্থাপনের মতো কাজ করা হয়েছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD