রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পানিতে নিজের ধান তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে জমিতেই কৃষকের মৃত্যু নতুন প্রজন্মের ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী পুরোদমে ভিসা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা-দিল্লি হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিশেষ বলয়ের ঘোষণা ইরানের বিদেশে নায়িকা মৌসুমীর ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’ গণভোটের রায় অস্বীকার করে দেশকে সংকটে ঠেলে দিচ্ছে সরকার: গোলাম পরওয়ার ডিসি সম্মেলনে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের তাগিদ থাকবে: মন্ত্রিপরিষদ সচিব যুদ্ধের জন্য ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ ইরান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের অন্ধকার যুগ যেভাবে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ধারার জন্ম দিচ্ছে আশা করি এমন কালো দিন আর আসবে না : আসিফ নজরুল

শহর থেকে গ্রামে করোনার ঝুঁকি তীব্রতর হচ্ছে

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৩ মে, ২০২০

ঘনবসতি পূর্ণ দেশের তালিকায় বেশ উপরের সারিতে বাংলাদেশের নাম থাকায় ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হবার পর অনেকেই বলেছিলেন, এক মাসের মধ্যে ২ কোটি করোনায় আক্রান্ত হবে বাংলাদেশে। কিন্তু তাদের সেই হিসেব কাজে লাগেনি।

বেশ সফলতার সঙ্গে বিগত মাসগুলোতে করোনা ভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের গতিতে লাগাম টেনে রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু ঈদের ছুটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন এক শঙ্কা। অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বাংলাদেশের প্রান্তিক অঞ্চলগুলো এখন রয়েছে করোনার ঝুঁকিতে। সেই সঙ্গে করোনা দ্রুততম সময়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ঈদে মানুষের গ্রামে যাওয়ার এই প্রবণতা বাংলাদেশকে বড় ধরণের হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের গ্রামগুলো এখন সবচাইতে ঝুঁকিপূর্ণ। শহরের তুলনায় গ্রামে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে তার পরিস্থিতি হবে আরো ভয়াবহ। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এখনো করোনা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য গ্লাভস বা ফেস মাস্ক ব্যবহার করছে না।

সেই সঙ্গে এই প্রান্তিক প্রতিটি গ্রাম গিয়ে মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নিয়মিত পাহারা দেয়ারও কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে গ্রামের মানুষজন এখনো হাট-বাজারে দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছে। আর শহর থেকে এই মানুষগুলো গ্রামে গিয়ে তার নিজ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের পাশাপাশি পুরো গ্রামকে হুমকির মুখে ফেলছেন।

এ সময় গ্রামে করোনা নিয়ে সচেতনতার প্রসঙ্গে তুলে তিনি বলেন, ‘শহরে এমনিতেও আমরা সবাই সবাইকে চিনি না। ফলে এমনিতেই কিছুটা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা হয়। সেই সঙ্গে শহরের মানুষের সচেতনতা এবং গ্রামের মানুষের সচেতনতা এক পর্যায়ে নয়। তাদের মধ্যে আইসোলেশন তৈর করা বেশ কঠিন।’

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে করোনা ভাইরাসের যেই পরিস্থিতি ছিলো তা হয়ত শহরের মধ্যে থেকেই এক সময় প্রকোপ কমে আসত। কিন্তু এখন গ্রামে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে গ্রামে থেকে পুনরায় সংক্রমণ ছড়াবে শহরে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই মহামারী চলাকালে নিজের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সুস্থতার কথা বিবেচনায় রেখে প্রত্যেকের গ্রামে যাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। না হলে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাবার সম্ভাবনা তৈরি হবে। সেই সঙ্গে হাসপাতালগুলো এই অতিরিক্ত রোগীর চাপ নিতে ব্যর্থ হলে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে আশঙ্কাজনক হারে।

বিশ্ব জুড়ে বর্তমানে কোভিড১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫২ লাখ ২৬ হাজারের বেশি। সুস্থ হয়েছেন ২১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। অন্যদিকে মারা গেছেন ৩ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি। বাংলাদেশে চলতি বছরের ৮ মার্চ প্রথম কোভিড১৯ আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর এখন পর্যন্ত দেশে নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে ৩২ হাজার ৭৮ জনকে। যার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৪৮৬ জন এবং মারা গেছেন ৪৫২ জন।

লাইটনিউজ/এসআই

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD