সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর শেখ হাসিনার নামে দেশে সম্পদের হিসাব ব্যাংক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশ দেশে অটোরিকশা ৮০ লাখ, অবৈধ চার্জে বছরে রাজস্ব ক্ষতি ৪ হাজার কোটি টাকা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না’ ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ালে ছাড় নয়’— দক্ষিণ কোরিয়াকে হুঁশিয়ারি ইরানের বৈধভাবে বছরে ১০ হাজার শ্রমিক ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ আছে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে জাপানকে ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫১৪, মামলা ৬১ সংঘাত-প্রতিশোধ নয়, সহনশীল রাজনীতি করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পাশাপাশি কবরে দাফন হলো কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী-সন্তানের

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬

বাগেরহাটে গৃহবধূ কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) ও তার নয় মাসের সন্তান সেজাদ হাসান নাজিফকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে স্বর্ণালীর বাবার বাড়ির কবরস্থানে মা-ছেলেকে দাফন করা হয়। এর আগে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে রাত ১১টা ২০ মিনিটে তাদের জানাজা হয়।

স্বর্ণালী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী। সাদ্দাম বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে আছেন।

বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার দুপুরে মা-ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে আনা হয়। সেখানে গোসল শেষে বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় মা-ছেলের মরদেহ। কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মানবিক দিক বিবেচনা মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে জুয়েলের পরিবারের ছয় সদস্যকে কারা ফটকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।

এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে সাদ্দামের বাড়ি থেকে স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশেই পড়ে ছিল তার ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের নিথর দেহ।

এ ঘটনার পর সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি সামনে আসে। তবে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘তারা প্যারোলের একটি আবেদন নিয়ে এলে তাদের বুঝিয়ে বলা হয়, যেহেতু সে আছে যশোরের কারাগারে, আবেদন করতে হবে সেখানকার (যশোরের) জেলা প্রশাসক বা জেল সুপারের কাছে। আমরা সে বিষয়ে যশোরে বলেও দিয়েছিলাম।’

এর পর শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মা-ছেলের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে সাদ্দামকে দেখাতে যশোর কারাগারে নিয়ে যান স্বজনরা। সব কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের ছয় সদস্যসহ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। কারাফটকে মিনিট পাঁচেক স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেখেন সাদ্দাম।

সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, ‘সাদ্দামের স্ত্রী সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি। কিন্তু মুক্তি দেওয়া হয়নি। উনি তো হত্যা মামলার আসামি না, রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। মুক্তি না পাওয়ায় আমরা অনেকেই এসেছি কারাগারে। কিন্তু ছয়জনের বেশি প্রবেশ করতে দেয়নি।’ সাদ্দামের শ্যালিকা কারাফটকে আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘সে তো খুনি না, রাজনৈতিক মামলা। তাও প্রশাসন তাকে ছাড়ল না। সাদ্দাম আমার দুলাভাই না, বড় ভাই ছিল।’

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, ‘কারাফটকে লাশ নিয়ে আসার পর আমরা ছয়জনকে প্রবেশ করতে দিই। সাধারণত অনুমতি না নিলেও কোনো কারাবন্দির স্বজন মারা গেলে, তার মরদেহ যদি স্বজনরা কারাফটকে আনেন, তাহলে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে দেখতে দেই।’

গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন থেকে যশোর কারাগারে আছেন তিনি।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD