কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া একটি বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজকে নিয়ে ইরান ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার মধ্যে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এটিকে সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পথ ব্যবহারকারী একটি জাহাজ হিসেবে দাবি করলেও, আন্তর্জাতিক ট্র্যাকিং সংস্থা ‘ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স’ জানিয়েছে, জাহাজটি আসলে গত মার্চ মাস থেকেই সেখানে আটকে রয়েছে।
সামুদ্রিক চলাচল পর্যবেক্ষণকারী এই সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, জাহাজটি একজন প্রভাবশালী ইরানি তেল ব্যবসায়ীর গোপন নেটওয়ার্কের অংশ।
ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, কমোরোসের পতাকাবাহী এই জাহাজটির নাম ‘অ্যারিস্টা’ । ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এটি সম্প্রতি চরে আটকে পড়েছে বলে প্রচার করলেও সংস্থাটি স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, জাহাজটি আসলে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই একই স্থানে আটকে ছিল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাহাজটি মার্কিন বা পশ্চিমা কোনো দেশের নয়, বরং এটি ইরানের শীর্ষস্থানীয় এবং প্রভাবশালী তেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসেন শামখানি-এর মালিকানাধীন বা পরিচালিত একটি কার্যক্রমের অংশ।
মোহাম্মদ হোসেন শামখানি হলেন ইরানের অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং সাবেক ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী শামখানি-এর পুত্র। আলী শামখানি দীর্ঘ সময় ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, মোহাম্মদ হোসেন শামখানি ছদ্মনামে বিশ্বজুড়ে একটি বিশাল ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন ট্যাঙ্কার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন, যা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে ইরানি ও রুশ তেল বিভিন্ন দেশে পাচার করে আসছে। অ্যারিস্টা জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা এই শামখানি নেটওয়ার্কেরই একটি অংশ বলে শনাক্ত করেছে ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছিল, তেহরানের নির্দেশিত রুট বা পথ এড়িয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পথ ব্যবহার করতে গিয়ে একটি বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালীর অগভীর জলে চরে আটকে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ জাহির করতেই ইরান এই ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স-এর এই নতুন তথ্যে ইরানের সেই দাবি বড় ধরনের ধাক্কা খেল। আল জাজিরা