সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৭:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাবরি মসজিদ ভেঙে মোদির গড়া রাম মন্দিরে দুর্নীতির মহা কেলেঙ্কারি ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী বৈঠকের দিনক্ষণ জানালেন ট্রাম্প সরকার-এনজিও সমন্বয়ে প্রাথমিকে গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই গাজায় ৩,৪৬৫ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৪৫ চাকরির জন্য তরুণদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি ট্রাম্প: নিউজার্সির গভর্নর দেশজুড়ে ব্যাপক বজ্রবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আভাস, নদীবন্দরেও সতর্কতা

২ মিনিটের ‘কিলিং মিশনে’ ছিল রতন গ্রুপ, গ্রেপ্তার ১৭

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২১ আগস্ট, ২০২২

কুমিল্লা নগরীতে শাহাদাত হোসেন ওরফে রবিউলকে (১৫) কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এ ছাড়াও কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ৯ জনকে এবং জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা দুজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। এ নিয়ে শাহাদাত হত্যাকাণ্ডে মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

রবিবার বেলা ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলেছেন র‍্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার কম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন।

তিনি জানান, রবিবার রাতে দেবীদ্বার ও কোতোয়ালি থানার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপের’ প্রধান রতনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে, দুটি সুইচ গিয়ার, চারটি বড় ছোরা ও একটি অ্যান্টিকাটার উদ্ধার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপের’ সদস্যরাই।

র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নগরীর ফৌজদারি মফিজাবাদ কলোনি এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে গ্যাং লিডার রতন মিয়া (২০), জহির মিয়ার ছেলে আকাশ হোসেন (২০), শাহ আলমের ছেলে সিয়াম হোসেন (২০), ভাটপাড়া এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে মো. তানজীদ (১৯), কালিয়াজুগি এলাকার মৃত মো. ফয়েজের ছেলে ইয়াসিন আরাফাত রাসেল (২১) ও বাঘমারা এলাকার মোহন মিয়ার ছেলে আসিফ হোসেন রিফাত (১৯)।

মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে রতনসহ তার গ্যাংয়ের সদস্যরা। তবে রতন গ্রুপ র‍্যাবের কাছে দাবি করেছে, শাহাদাতও নগরীর আরেক আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘ঈগল গ্রুপের’ সদস্য। খুনের নেপথ্যে ছিল দুই কিশোর গ্যাং ঈগল ও রতন গ্রুপের দ্বন্দ্ব।

এর আগে এই হত্যাকাণ্ডে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ছয়-সাতজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা শাহানারা বেগম। এ মামলার প্রধান আসামি রতন মিয়া।

রবিবার দুপুরে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হানিফ সরকার বলেন, এখন পর্যন্ত শাহাদাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে থানা পুলিশের সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছেন ৯ জনকে। মামলার প্রধান আসামি রতনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। আর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গ্রেপ্তার করেছে দুজনকে।

তিনি জানান, থানা পুলিশ যে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রবিবার দুপুরে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ সময় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগর উদ্যান পার্কের পাশের এলাকায় ওই কিশোরকে হত্যা করা হয়। শাহাদাত নগরীর পুরাতন চৌধুরীপাড়া হোমিও কলেজের ডান পাশের গাংচর এলাকার বশু মিয়ার বাড়ির গাড়িচালক মো. শাহ আলম ভূঁইয়ার ছেলে। শাহাদাত কুমিল্লা নগর উদ্যানের (পার্ক) একটি রাইডের কর্মচারী ছিল।

এদিকে শাহাদাত হোসেন হত্যাকাণ্ডের সময়কার একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, শাহাদাতকে দৌড়ের মধ্যেই ছুরিকাঘাত, কোপ ও মারধর করেছে হত্যাকারীরা। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে কিলিং মিশন শেষ করে সবার সামনে দিয়ে পালিয়ে যায় কিশোর গ্যাংয়ের ওই সদস্যরা। ভিডিওটিতে অন্তত ২০ জনের একটি কিশোর গ্যাং গ্রুপকে শাহাদাতের পেছনে ধাওয়া করতে দেখা গেছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD