বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ন

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০

আগুনে পোড়ে মানুষ, কিন্তু একটি সুপারিশও আলোর মুখ দেখেনি

বড় কোনো আগুন লাগলেই নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত কমিটি হয়, আসে সুপারিশ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, তা হারিয়েও যায়। দুই একটি ঘটনা অবশ্য, আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সেখানেও আশানুরূপ কোনো কিছু মেলে না। ফলে একের পর এক আগুনের ঘটনা ঘটেই চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপারিশ বাস্তবায়ন আর কার্যকর আইনি পদক্ষেপই কমাতে পারে আগুনের দুর্ঘটনা।

নিমতলীর আগুন কখনো ভোলার নয়। ২০১০ সালের ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় ঝড়ে পড়ে ১২৪টি তাজা প্রাণ।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে চকবাজারের চুড়িহাট্টার ভয়াবহ আগুন, সবার স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে আসে নিমতলীর ট্রাজেডিকে। নিহতের সংখ্যা শতক না পেরোলেও, নেহায়েত কম নয়। ৭৮ জনের প্রাণহানিও পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক কারখানা সরাতে পারেনি।

এর এক মাস পর, রাজধানীর বনানীতে ‘এফআর টাওয়ারে’ আগুন। ২৬ জনের মৃত্যু দিয়ে রচিত হয়, আরেক কষ্টের উপাখ্যান। গত রোববারও তার পাশের ভবনেই আরেকটি ট্রাজেডি ঘটতে যাচ্ছিল। ২২ তলা ‘আহমেদ টাওয়ারে’র ১৫ তলায় লাগা আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে কী হতো, তা ভেবে অনেকেই শিউরে ওঠেন।

প্রতিটি ঘটনার পর, একাধিক তদন্ত কমিটি হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে, যেখানে নানা সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু একটি সুপারিশও আলোর মুখ দেখেনি। ফলে আগুনও প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। তাই এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিলেন বিশেষজ্ঞরা।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, শক্তিশালী কমিটি গঠন করে তার মাধ্যমে সমস্ত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তাহলে দুর্ঘটনা কমতে পারে। সুপারিশ বাস্তবায়নে ক্ষেত্রে বাধা আসতে পারে। কিন্তু রাজনীতিক সত্য ইচ্ছার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করলে, প্রশাসনিক শক্ত অবস্থানের মধ্যে দিয়ে তদন্ত কমিটির সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ইনস্টিউট অব প্ল্যানার্সর সভাপতি অধ্যাপক আখতার মাহমুদ বলেন, আমাদের শহরে যে ভূমি ব্যবহারের পরিকল্পনা আছে তা বাস্তবায়নের প্রয়োজন। যে বিল্ডিংগুলো তৈরি হচ্ছে তা নিয়ম মেনে করা হলে, অনেক দূর্ঘটনা কমে যাবে। ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুসরণে ওপরও গুরুত্ব দিলেন সকলে।

প্রতিটি দুর্ঘটনার পর মামলা হয়। কখনো কখনো অপরাধীদের আদালতের কাঠগড়ায়ও যেতে হয়। কিন্তু চূড়ান্তভাবে কিছু না হওয়ায়, দুর্ঘটনা কমে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন শাস্তির মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে, যারা এরকম অপরাধ করছে তাদের আইনের মাধ্যমে শাস্তি প্রধান করা হবে।

আগুনের ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানালেন বিশেষজ্ঞগণ।

লাইটনিউজ

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD