পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে অক্সিজেন সহায়তা না পেয়ে সফিউল আলম (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে নার্সদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে রোববার (৬ মার্চ) রাতে ওই মৃত ব্যক্তির স্বজন ও প্রতিবেশীরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। পরে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করেন ।
মৃতের বাড়ি পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকার পূর্ব ইসলামবাগ গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত ফজলার রহমানের ছেলে।
জানা গেছে, প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন রোগীর স্বজন ও সফিউলের প্রতিবেশীরা। বিক্ষোভকারী ও স্বজনদের দাবী, হাসপাতালের নার্সদের অবহেলা ও অক্সিজেন মাস্ক সরবরাহ না করার কারণে অক্সিজেন না পেয়ে সফিউলের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত সফিউলের পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির পর সফিউলের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল কিন্তু তাকে অক্সিজেন সহায়তা দেওয়া হয়নি। অক্সিজেন দেওয়া নিয়ে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় সফিউলের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত সফিউলের ছোট ছেলে শামিম বলেন, আমার বাবা নার্সের ভুল চিকিৎসা এবং অক্সিজেন সহায়তা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। যখন আমার বাবা নিশ্বাস নিতে পারছে না তখন ছয়টি ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে, ওই সময়ে অক্সিজেন প্রয়োজন ছিল কিন্তু নার্সরা আমার বাবাকে অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে অক্সিজেন সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এত বড় হাসপাতাল কিন্ত অক্সিজেন মাস্ক সরবরাহ নেই কেন?
সরেজমিনে রাতের সদর হাসপাতালে পুরুষ ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্সদের সাথে কথা হলে তারা জানান, আমরা শুনেছি ওই রোগী ছিল হৃদরোগে আক্রান্ত। এ সময় কয়েকজন নার্সরা দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই মুহূর্তে হাসপাতালে কোনও অক্সিজেন মাস্ক সরবরাহ ছিল না।
সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুল হাসান জানান, আমি হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভের কথা শুনে হাসপাতালে গিয়েছি, ডা. সিরাজউদ্দৌলা পলিনের সঙ্গে কথা হয়েছে রোববার হাসপাতালের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে পাঁচটি করে অক্সিজেন মাস্ক মজুদ রাখা ছিল কিন্ত তারপরও কেন এই ঘটনা ঘটেছে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ওই রোগীর মৃত্যুর সময়ে যে সকল নার্স কর্তব্যরত ছিল তারা বর্তমানে ডিউটিতে নেই। তবে সোমবার এ বিষয়ে সভা আহ্বান করা হয়েছে। তদন্তের পর কর্তব্যরত নার্সরা দোষী সাব্যস্ত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।