শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই: নাহিদ ইসলাম দেশ সবার, সব ধর্মের মানুষকে নিয়েই এগোতে হবে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আবারও ইরানে হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, পাল্টা কঠোর হুমকি তেহরানের জুমার নামাজের পর আল-আকসার ইমামকে আটক করল ইসরায়েল নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই প্রযুক্তিতে বিশ্বসেরা হবে চীন: শি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এইচএসসি পরীক্ষা: সব কেন্দ্রের জন্য জরুরি নির্দেশনা খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের তুরস্ক থেকে ফেরার সময় হঠাৎ কেন উড়োজাহাজ বদলাতে বাধ্য হলেন ট্রাম্প! চোরবালিতে নামলেন ট্রাম্প, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন

আবারও ইরানে হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, পাল্টা কঠোর হুমকি তেহরানের

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আজ রাতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আবারও “কঠোর হামলা” চালাতে পারে।

বুধবার ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে তেহরান “খুবই খারাপ আচরণ” করেছে। তার অভিযোগ, ইরান সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজেও হামলা করেছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে আবার নৌ অবরোধ শুরু করতে পারে এবং প্রয়োজনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নিতে পারে।

তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ জন নিহত হয়েছে।

তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দল কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চালিয়ে যেতে পারে।

অন্যতম, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি কার্যত ‘সমাপ্ত’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার তার এই আকস্মিক ঘোষণার পর মার্কিন রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সামনেই কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এমন সময়ে একটি অজনপ্রিয় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও তার দল রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর রিপাবলিকানরা আশা করেছিল, যুদ্ধ বন্ধ হলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তারা ভালো ফল করবে। এর আগে জ্বালানির চড়া দাম নিয়ে দলের নেতারা হোয়াইট হাউসকে সতর্কও করেছিলেন।

এখন যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। একদিকে মার্কিন ভোটারদের বড় অংশই এই যুদ্ধের বিরোধী, অন্যদিকে দলীয় প্রার্থীরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেদের পুরোপুরি দূরেও সরিয়ে নিতে পারছেন না। এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে গেছে এবং ধস নেমেছে শেয়ার বাজারে।

রিপাবলিকানপন্থী নির্বাচনী সংগঠন ‘মেইন স্ট্রিট পার্টনারশিপ’-এর প্রধান সারা চেম্বারলিন বলেন, ‘ভোক্তাদের কাছে এখন প্রধান বিষয় হলো জীবনযাত্রার ব্যয়। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের এই মৌসুমে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম আবার বাড়লে তা রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। এখন প্রার্থীদের চেষ্টা করতে হবে এই পরিস্থিতির পুরো দায় ইরানের ওপর চাপানোর।’

বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইরান সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকায় অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই অসন্তুষ্ট। গত জুন মাসে ফক্স নিউজ পরিচালিত এক জরিপে ৫৮ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এছাড়া ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতাই ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত এড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

যুদ্ধবিরতি বাতিলের পর থেকে অধিকাংশ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তবে দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে টমাস ম্যাসির মতো কোনো কোনো নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে, বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা এই ঘটনাকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা একে ট্রাম্পের ‘পছন্দের যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগের জন্য একে দায়ী করছে।

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ড্যান গোল্ডম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ যখন ক্রমাগত বাড়ছে, তখন ট্রাম্পের বেপরোয়া ইরান যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। তিনি জীবনযাত্রার সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা আরও গভীর করেছেন।’

একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটরা ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ অনুযায়ী কংগ্রেসের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি নতুন করে তুলছেন।

ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন হামলার পর তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও সম্ভব, তবে তা হবে সময়ের অপচয়।

এর পাশাপাশি বুধবার তিনি ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের তীব্র হুমকি দেন। ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘এক দিনের মধ্যেই আমরা ইরানের প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দিতে পারি। তাদের সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কারখানা রয়েছে, প্রয়োজন হলে সেগুলোও ধ্বংস করব… এমনকি খার্গ দ্বীপও হয়তো আমরা দখল করে নেব!’

সূত্র: সিনহুয়া

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD