মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন

স্বামীকে তালাক দেওয়ায় সৎ ছেলেকে খুন, নারীসহ সৎ পিতা গ্রেপ্তার

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৮ মে, ২০২২

বগুড়ার শাজাহানপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার শিকার শিশু সামিউল ইসলাম সাব্বির (১০) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও মরদেহ উদ্ধারের ৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা সৎ পিতা ফজলুর রহমান (৩৫) ও অনিতা রানী (৩৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্বামী ফজলুর রহমানকে তালাক দেওয়ায় এর প্রতিশোধ নিতেই সৎ ছেলে শিশু সামিউল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (১৮ মে) দুপুরে জেলা পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার সুদীপ চক্রবর্তি বিপিএম।

গ্রেপ্তারকৃত ফজলুর রহমান উপজেলার খরণা ইউনিয়নের কলমাচাপড় গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে এবং অনিতা রানী উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের চেলো গ্রামের মৃত খিরদ চন্দ্র দেবনাথের মেয়ে।

হত্যার শিকার শিশু সামিউল ইসলাম হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া ইউনিয়নের সাজাপুর কাগজিপাড়া গ্রামের আবু তালেবের মেয়ে সালেহা বেগমের (২৮) প্রায় ১০ বছর আগে মাঝিড়া ইউনিয়নের সাজাপুর কাগজিপাড়া গ্রামের মৃত মুনছুর আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের (৩০) সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। তাদের সংসার জীবনে সামিউলের জন্ম হয়। করোনাকালে সামিউলকে শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর পূর্বপাড়া তালিমুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। এদিকে দ্বিতীয় স্বামী জাহাঙ্গীর আলম মাদকসেবী হওয়ায় দেড় মাস আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিবাহ বিচ্ছেদের পরপরই ছেলে সামিউলকে সঙ্গে নিয়ে সালেহা বেগম পরিবহন শ্রমিক ফজলুর রহমানকে তৃতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তৃতীয় স্বামী ফজলুর রহমান সৎ ছেলে সামিউলকে সহ্য করতে পারতেন না। স্বামী ফজলুর রহমান নানা সময় নানাভাবে সৎ ছেলে সামিউলকে নির্যাতন করতেন। এমন কি না খাইয়ে রাতের বেলা ঘরের বাইরে রেখে দিতেন। বাড়ি থেকে বের করে দিতেন। এ কারণে গত ১১ মে তৃতীয় স্বামী ফজলুর রহমানকে তালাক দেন সালেহা বেগম। এরপর থেকে প্রতিশোধ নিতে সৎ ছেলে সামিউলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ফজলুর রহমান।

সম্মেলনে আরো জানানো হয়, পরিকল্পনা অনুসারে গত সোমবার (১৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফজলুর রহমান সাজাপুর পূর্বপাড়া তালিমুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে সামিউলকে বেড়াতে নিয়ে যেতে চান। কিন্তু মাদ্রাসার হুজুর মায়ের অনুমতি ছাড়া সামিউলকে দিতে না চাইলে ফজলুর রহমান তার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের চেলো গ্রামের মৃত খিরদ চন্দ্র দেবনাথের মেয়ে অনিতা রানীকে (৩৫) মা সাজিয়ে তার ফোন থেকে হুজুরকে মা পরিচয় দিয়ে ছেলে দিতে বলেন। এরপর সামিউলকে বাড়ি নেওয়ার কথা বলে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের মানিকদিপা উত্তরাপাড়া গ্রামের চড়াপাথারের নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর জনৈক হাফিজুর রহমাননের লাউয়ের মাঁচার নীচে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে সামিউলকে হত্যা করে। পরদিন মঙ্গলবার (১৭ মে) স্থানীয়দের দেয়া খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সামিউলের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের ৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা সৎ পিতা ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

সামিউলের মা সালেহা বেগম জানান, স্বামী তালাক দেয়ার পরও ফজলুর রহমান তার পিছু ছাড়ছিলেন না। আবারো তার সঙ্গে সংসার করার জন্য চাপাচাপি করছিলেন। কিন্তু ছেলেকে ছাড়া সংসার করতে রাজি না হওয়ায় তার ছেলেকে ফজলুর রহমান হত্যা করেছে বলে জানান ছালেহা বেগম।

শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মা সালেহা বেগম বাদি হয়ে ফজলুর রহমান ও অনিতা রানীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD