সাধারণত মানুষ মৃত্যুর আগে নিজের সহায়-সম্পত্তি স্ত্রী-সন্তান অথবা পরিবারের অন্য সদস্য কিংবা আত্মীয়-স্বজনদের নামে লিখে দেন। কিন্তু এক ব্যক্তি তার সম্পত্তির অর্ধেক লিখে দিয়েছেন পোষ্য দুই হাতির নামে। শুনতে খুব অবাক লাগলেও সম্প্রতি এমনই ঘটনা ঘটেছে ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনা জেলায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আখতার ইমাম নামের ওই ব্যক্তির রানি ও মোতি নামের দুটি হাতি রয়েছে। তিনি হাতি দুটিকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। ইমাম এদের এতটাই ভালোবাসেন আর বিশ্বাস করেন যে, নিজের সম্পতির অর্ধেক তিনি প্রাণী দুটির নামেই লিখে দিয়েছেন।
জানা যায়, রানির বয়স বর্তামানে ১৫ বছর এবং মোতির ২০ বছর। হাতি দুটির জন্মের পর থেকেই আখতার ইমাম সঙ্গে রয়েছে। এরা সবসময় তার ছায়াসঙ্গী হিসেবে ঘুরে বেড়ায়। ইমামের মৃত্যুর পর হাতি দুটির রক্ষণাবেক্ষণের কী হবে- এমন চিন্তা থেকেই তিনি তার মোট সম্পত্তির অর্ধেক রানি ও মোতির নামের লিখে দিয়েছেন। আর বাকি অর্ধেক দিয়েছেন তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে।
হাতি রক্ষাণাবেক্ষণে ‘ঐরাবত’ নামের এনজিও মালিক আখতার ইমাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাতি দুটিকে লালন-পালন করছেন। বন্যপ্রাণীরা মানুষের থেকে বেশি বিশ্বস্ত হয়। তার মৃত্যুর পর হাতি দুটি অনাথ হয়ে যাক এমনটা চান না তিনি। তাই পোষ্য প্রাণী দুটির নামে সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, রানি ও মোতি অনেকবার তাকে বিপদ থেকে রক্ষা করেছে। এতে এদের সঙ্গে তার একটি আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
আখতার ইমামের বেশ কয়েক কোটি টাকার জায়গা সম্পত্তি রয়েছে। তাই অর্ধেক সম্পত্তি লিখে দেওয়ায় হাতি দুটিও রীতিমতো কোটিপতি হয়ে গেছে। তবে হাতি দুটির মৃত্যুর পর এসব সম্পতি আর তার পরিবার পাবে না। তখন এসব সম্পত্তির মালিক হবে ‘ঐরাবত’ নামের সংস্থাটি।