দেশে বর্তমানে যে রিজার্ভ আছে তা দিয়ে ৯ মাসের খাদ্যশস্য কেনার সক্ষমতা আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার (২৭ জুলাই) দুপুরে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন তিনি।
সরকার প্রধান বলেন, বিশ্ব মুদ্রাস্ফীতির জন্য হিমসিম খাচ্ছে। করোনা মোকাবিলা করতে করতে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ। পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা। ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাদ্যের সংকট। সব দেশ জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হয়েছে। ইংল্যান্ড, জার্মানি প্রতিটি দেশে দুঃসময় চলছে। বাংলাদেশে যেন তেমন দুঃসময় না আসে সেজন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। তারপরও ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছি। উৎপাদন যেন অব্যাহত থাকে।
তিনি বলেন, এক ইঞ্চি জমিও যেন খালি না থাকে। সেনা থেকে সব বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি যাতে এক ইঞ্চি জমি খালি না থাকে। একই সঙ্গে দলের সবাইকে বলবো উৎপাদন করবেন। এর মাধ্যমে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবো।
চাহিদার চাইতে বেশি পেট্রল ও অকটেন দেশে মজুত আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিথ্যা কথায় কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। ডিজেল আমাদের কিনতে হয় ঠিকই। কিন্তু পেট্রোল, অকটেন কিনতে হয় না। সমালোচকরা অনেক বেশি জ্ঞানি তো। ছোট বিষয়গুলো ভুলে যান। দেশকে কীভাবে পিছিয়ে নিতে হয় সেটা বিএনপি ভালোই জানে। এদের হাতে বাংলাদেশ কখনও নিরাপদ নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্নভাবে আমরা যখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, ২০০১ সালে আমাদের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হলো না। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস আছে, আমাদের সময় আমরা টেন্ডার দিয়েছিলাম। অনেকগুলো আমেরিকান কোম্পানি এখানে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন শুরু করে। সে সময় একটা প্রস্তাব ছিল আমেরিকার যে, এই গ্যাস তারা বিক্রি করবে। আমার কাছে প্রস্তাব এলে আমি সেটা নাকচ করে দিই কিন্তু খালেদা জিয়া এগিয়ে আসে, গ্যাস বিক্রি মুচলেকা দেয়। গ্যাস বাংলাদেশের, উত্তোলন করবে আমেরিকান কোম্পানি, বিক্রি করবে ভারতের কাছে, কিনবে ভারত। এই মুচলেকা দিয়েই ২০০১-এ বিএনপি ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হয়। একটা আন্তর্জাতিক চক্রান্তে পড়েই আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি।
তিনি বলেন, আমরা কথা দিয়েছিলাম প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুৎ দেবো। আমরা বিদ্যুৎ দিয়েছিলাম। যেহেতু বিশ্বব্যাপী আজকে মন্দা দেখা দিয়েছে এবং সব উন্নত দেশগুলো বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হচ্ছে, আমরা মহাবিপদের মধ্যে যাতে না পড়ি তার জন্য আগে থেকেই আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। সে কারণেই আমরা সে পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা সাশ্রয়ী হওয়ার চেষ্টা করছি, বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত রাখার পদক্ষেপ নিয়েছি। এর মানে এই না বিদ্যুৎ একেবারে নাই, শেষ হয়ে গেছে।