সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাবরি মসজিদ ভেঙে মোদির গড়া রাম মন্দিরে দুর্নীতির মহা কেলেঙ্কারি ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী বৈঠকের দিনক্ষণ জানালেন ট্রাম্প সরকার-এনজিও সমন্বয়ে প্রাথমিকে গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই গাজায় ৩,৪৬৫ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৪৫ চাকরির জন্য তরুণদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি ট্রাম্প: নিউজার্সির গভর্নর দেশজুড়ে ব্যাপক বজ্রবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আভাস, নদীবন্দরেও সতর্কতা

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামি ১৭ বছর পর গ্রেপ্তার

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০২২

সাভারের ধামরাইয়ের সামিনা নামে এক গৃহবধূকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামি আবদুর রহিম (৬৪) ও রোকেয়াকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৪)। মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রাজজধানীর কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক (সিও) ডিআইজি মোজাম্মেল হক। এর আগে সোমবার (২২ আগস্ট) চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ থানাধীন নারায়ণপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তারা ২০০৫ সালে সাভারের কাউন্দিয়া এলাকায় গৃহবধূ সামিনাকে (১৮) পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তারা দুইজনই গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন, পরে জামিনে বের হয়ে পলাতক ছিলেন।

ঘটনার বিবরণে র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক জানান, ২০০৩ সালে রোকেয়ার ছোট ভাই জাফরের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সামিনার। বিয়ের সময় নগদ টাকা, আসবাসপত্র এবং ইলেক্ট্রনিকসামগ্রী দিলেও যৌতুক হিসেবে আরও টাকা দাবি করে জাফরের পরিবার। টাকার জন্য সামিনাকে প্রায়ই শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন। টাকা দিতে না পারায় ২০০৫ সালের ৭ জুন সামিনাকে স্বামীর বাড়ির সদস্যরা মারধর করেন। একপর্যায়ে স্বামী জাফর সামিনার আগুন ধরিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। আশপাশের লোকজন সামিনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ জুন সামিনার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভিকটিমের মা। একই বছরের ৩১ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এজাহারনামীয় সব আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণাদি গ্রহণ শেষে ২০১৮ সালের ৫ জুলাই আদালত ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

ঘটনার পরেই শুধুমাত্র জাফরের বড়ভাই জাহাঙ্গীর ছাড়া সবাই গ্রেপ্তার হয়। মামলার মূল অভিযুক্ত আসামি জাফর জেলে রয়েছেন। বড় ভাই সালেক ও মামা ফেলানিয়া মামলা চলাকালে গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পায় এবং বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছেন।

সর্বশেষ গ্রেপ্তারকৃত আবদুর রহিম ১১ মাস ও রোকেয়া ১৭ মাস কারাভোগের পর ২০০৬ সালের শেষের দিকে জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। রায়ের সময় শুধুমাত্র ভিকটিমের স্বামী জাফর আদালতে হাজির ছিলেন বাকি আসামি পলাতক ছিলেন। বর্তমানে এই মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরও তিনজন আসামি পলাতক রয়েছেন।

ডিআইজি মোজাম্মেল গ্রেপ্তার দুইজনের বিষয়ে বলেন, তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। ১৯৯২ সালে তাদের বিয়ে হয়। রহিম রায়ের পর থেকে ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় পেশা পরিবর্তন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। সে কখনোই এক জায়গায় বসবাস করতেন না।

রোকেয়া ২০১৭ সালে নিজের আইডি কার্ডে বয়স কমিয়ে জন্মতারিখ পরিবর্তন করে নিজেকে অবিবাহিত দেখিয়ে নতুন আইডি কার্ড তৈরি করে গৃহকর্মী হিসেবে কৌশলে সৌদিআরবে পাড়ি জমায়। গত ৫ বছর ধরে তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। গত জুনের প্রথম দিকে বাংলাদেশে ফেরত আসেন এবং গত ২ মাস ধরে রহিম এবং রোকেয়া তাদের কন্যা পিংকির শ্বশুরবাড়ি চাঁদপুরের নারায়ণপুর গ্রামে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD