শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভাষা দক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞানের সমন্বয়েই এগোবে বাংলাদেশের অর্থনীতি: ববি হাজ্জাজ ওমরাহ পালন করলেন কেয়া পায়েল শান্তিতে নোবেলজয়ী পিল্লাইকে ইহুদিবিদ্বেষী বললেন নেতানিয়াহু কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বিমানের চাকা বিচ্ছিন্ন, শাহজালালে জরুরি অবতরণ দিল্লি পুলিশের হাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটক যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে আঘাত হানছে হারিকেন ইসাইয়াস, জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা দেশে খাদ্যের মজুত পর্যাপ্ত, রমজানেও সংকট হবে না: খাদ্যমন্ত্রী মক্কা চুক্তির বিষয়টি আমরা ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করছি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভোট চুরির অভিযোগ স্বীকার করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি? বিমান থেকে অভিজিৎ দীপকেসহ সিজেপির ৩ শীর্ষ নেতা আটক

‘আ.লীগ সরকার দেশের একটা অর্থও অপচয় করে না’

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২২

আওয়ামী লীগ সরকার দেশের একটা অর্থও অপচয় করে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, প্রতিটি অর্থ ব্যয় করে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে-কল্যাণে এবং তাদের ভালো-মন্দ দেখে। রিজার্ভের টাকা কেউ চিবিয়ে খায়নি, গিলেও খায়নি আর নিয়েও যায়নি। তবে হ্যাঁ, বিএনপি বলবে। তারা নিজেরা চুরি করে অর্থ-সম্পদ বানিয়েছে। কারণ তাদের তো কিছুই ছিল না।

শনিবার সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিরোধী দল থেকে প্রায়ই রিজার্ভের টাকা গেল কোথায় এ নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন করে। সেই সঙ্গে সঙ্গে সারা বাংলাদেশে একটা অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করে। তাদের আমি বলতে চাই, বিএনপির যখন ক্ষমতায় ছিল তখন রিজার্ভ ছিল মাত্র ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত এটা বৃদ্ধি পেয়েছিল মাত্র ৫ বিলিয়নের মতো। সেই জায়গা থেকে আমরা এই রিজার্ভ প্রায় ৪৮ বিলিয়নের কাছাকাছি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হই।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে যোগাযোগ-যাতায়াত-আমদানি সবকিছু পায় বন্ধ ছিল।

যখন এই যোগাযোগটা খুলে গেছে, তখন আমাদের আমদানি করা, বিশেষ করে সারা বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ও ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক যে মন্দা দেখা দিয়েছে, তার আঘাতটা আমাদের দেশে এসে পড়েছে। আজকে রিজার্ভের টাকা থেকে আমাদের যেমন আমদানি ব্যয় মেটাতে হচ্ছে, পাশাপাশি আমরা বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন দিয়েছি। করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থাও বিনা পয়সায় করেছি। পৃথিবীর উন্নত কোনো দেশ বিনা পয়সার টেস্টের ব্যবস্থা করেনি, ভ্যাকসিনও দেয়নি। আমরা নগদ টাকা দিয়ে প্রথমে ভ্যাকসিন কিনি। এরপরে আমরা অনুদান পেয়েছি। আমরা কিন্তু নগদ টাকা দিয়ে কিনি।

খাদ্যপণ্যের দাম কিন্তু সারা বিশ্বে বেড়ে গেছে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। জ্বালানি-ভোজ্য তেল, গম, ভুট্টা, ডাল—যা কিছু আমাদের আমদানি করতে হচ্ছে। আমরা চাল উৎপাদন করছি, খাদ্য উৎপাদন করছি। আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ, তারপরও আমাদের আমদানি করতে হয়। যখন বন্যা-ঘূর্ণিঝড়ে ফসল নষ্ট হলো তখন আমাদের ফসল আমদানি করতে হয়েছে। আমরা যেটুকু খরচ করেছি সেটা জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে। জনগণের খাদ্য, ক্যানসারের ওষুধ কেনা…জনগণের মঙ্গলের জন্য আমাদের করতে হয়েছে। সার, জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ আমাদের কিন্তু কিনতে হচ্ছে। নগদ টাকা দিয়ে আমরা কিনছি। তা ছাড়া, আমাদের রিজার্ভের টাকা দিয়ে আমরা কিন্তু বিমান কিনেছি। নদী ড্রেজিং, সেটাও আমরা নিজেদের রিজার্ভের টাকা দিয়ে করছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু কিছু আমরা বিনিয়োগ করছি এই কারণে সেটা হলো, আমরা যদি অন্য দেশ থেকে লোন নিই আমাকে সুদসহ সেই ডলার পরিশোধ করতে হয়। আমাদের ডলার যদি আমরা খরচ করি, আমরা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে দিচ্ছি, তাতে করে সুদসহ টাকাটা…আমাদের দেশের টাকা দেশেই থেকে যায়। সেটাকে লক্ষ করে ৮ বিলিয়নের মতো আমরা খরচ করেছি। যখন শ্রীলঙ্কা খুব অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ে তাদেরকেও কিছু টাকা আমরা ধার দিয়েছি।

এখানে কিন্তু পয়সা কেউ তুলে নিয়ে চলে যায়নি। তাদের মনে সব সময় ও রকম ভয় থাকে, এ কথা তারা বলে। বিএনপি বিশেষ করে বলবে। বলার কারণটা হচ্ছে, তাদের নেতা তারেক জিয়া মানি লন্ডারিং কেসে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড পেয়েছে এবং সে পলাতক আসামি। মানি লন্ডারিং যাদের অভ্যাস তারা শুধু ওইটাই জানে টাকা বোধ হয় সব নিয়ে যেতে হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমেদ কায়কাউস। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চীনা এক্সিম ব্যাংক এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জন্য ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বা ১০ হাজার ২২৬ দশমিক ৫৩ কোটি টাকার ঋণের অনুমোদন দিয়েছে। মোট ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়ের ৬৫ শতাংশ দেবে চীন। ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর, আশুলিয়া, বাইপাইল এবং ইপিজেডকে যুক্ত করবে।

তবে এ এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যানবাহনগুলোকে টোল দিতে হবে। প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে দেশের ৩০ জেলার মানুষ দ্রুত ও সহজে রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হতে পারবে। এর মাধ্যমে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ০ দশমিক ২১ শতাংশ বাড়বে বলেও আশা করা হচ্ছে।

অপরদিকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজও চলমান আছে। এই এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পয়েন্টে যুক্ত হবে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD