করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন এবং ক্লোরোকুইনের জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনার চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের পরামর্শ দেন এবং তিনি নিজেও এই ওষুধ ব্যবহার করেছেন বলে দাবি করেছিলেন।
তবে সোমবার (১৫ জুন) এফডিএ ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ওষুধ দুইটির ওপর সম্প্রতি চলা গবেষণার পর্যালোচনা বিবেচনায় নিয়ে সংস্থাটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন বাতিলের। কারণ সর্বশেষ গবেষণায় করোনার চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইনের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়নি।
এর আগে মার্চের শেষ সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেন, এফডিএ করোনার চিকিৎসায় ওই ওষুধ অনুমোদন করেছে। তবে তখনই ও্ই দাবি নাকচ করে দেয় এফডিএ। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন এই ওষুধের ঝুঁকির ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়। তবে মার্চে সংস্থাটি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতিতে ওষুধ দুটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়ে রাখে।
তবে এবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলো মার্কিন সরকারি এ সংস্থাটি। এফডিএর প্রধান বিজ্ঞানী ডেনিস হিন্টন বায়োমেডিকেল অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির গ্যারি ডিসব্রোকে একটি চিঠিতে লিখেছেন, ওষুধ দুইটি ব্যবহারে ভালো ফলের থেকে ঝুঁকি বেশি। হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন এবং ক্লোরোকুইনের ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে গুরুতর হৃদযন্ত্রের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এ ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন বাতিল করা হলো।
দ্য ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালে ‘হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহারে মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি পায়’ এমন একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসা সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত ২৫ মে ওষুধটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দেয়। পরে গত ৩ জুন ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সংস্থাটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় আবারও ওষুধ দুটি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়।
ওই সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রোয়াসুস বলেছিলেন, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিরাপত্তা সতর্কতা হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের প্রয়োগ কতটা নিরাপদ ও কার্যকরী পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সাময়িকভাবে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার বন্ধের যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা প্রত্যাহার করা হলো।