লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে করোনাভাইরাসের ভয় দেখিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীর বাসায় গড়ে তোলা ‘মিনি ক্লিনিক’-এ এক প্রসূতিকে সিজার করতে গিয়ে নবজাতককে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার বিকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী মায়া বেগমের রায়পুর পৌর শহরের টিসি সড়কের বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আজ সকালে মৃত নবজাতকের মা মরিয়ম বেগম সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।
মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের শায়েস্তানগর গ্রামের প্রবাসী দেলোয়ারের স্ত্রী মরিয়ম বেগমের প্রসব ব্যাথা উঠে। এনিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যকর্মী মায়া বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এসময় তাদেরকে সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে করোনার ভয় ও টাকা বেশি খরচের কথা বলে মায়া। একপর্যায়ে রায়পুর পৌর শহরের টিসি মোড়ে মায়ার নিজ বাসার মিনি ক্লিনিকে ওই প্রসূতিকে ভর্তি করা হয়। এসময় ৩ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে ওই প্রসূতির চিকিৎসা শুরু করা হয়। ছোট সিজারের আগে পেটে বাচ্চা জীবিত ছিল। এরপরই মৃত বাচ্চা প্রসব করিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী নিজেই স্বজনদের জানায়। কিন্তু স্বজনরা ঘটনাটি তাৎক্ষণিক ইউএনও এবং পুলিশকে জানিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মরিয়ম বেগম বলেন, আমাদের ভয় দেখিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী তার ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করিয়েছেন। ছোট সিজারের আগে আমার বাচ্চা পেটে জীবিত ছিল। তারা আমার বাচ্চাকে মেরে ফেলেছে। আমি এ ক্লিনিক বন্ধসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে খবর পেয়ে সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্তদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেয়। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীর উপযুক্ত বিচার করার আশ্বাস দিয়ে নবজাতকের স্বজনদের শান্তনা দেন তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার লিখিত অভিযোগ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুটির মরদেহ দাফন করা হয়েছে। মামলা হলে ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ কবর থেকে উঠানো হবে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী মায়া বেগমের মোবাইলফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তবে তার স্বামী হারুন দেওয়ান জানান, বাসায় এসব ঘটনা হলে কিছু সমস্যা হবে। আবার সমাধানও হয় বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, টাকার বিনিময়ে স্বাস্থ্যকর্মী মায়া তার বাসায় প্রসূতিদের সিজারসহ বিভিন্ন রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। এজন্য স্থানীয়দের কাছে বাসাটি মিনি ক্লিনিক হিসেবে পরিচিত।
লাইট নিউজ