কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ক্যাজরবিল ও দৌছড়ি এলাকায় বাঁকখালী নদী ভাঙনের কবলে পড়ে তলিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য স্থাপনা। নদীর দু’পাশে টেকসই বেড়িবাঁধ বা জিও ব্যাগের অভাবে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ছে কবরস্থান, মসজিদসহ শতশত বসতবাড়ি।
স্থানীয়রা জানান, দৌছড়ি উত্তরকুল মাষ্টারপাড়া অতি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় ভাঙনের ফলে পশ্চিম পাড়া যাতায়াতের রাস্তা শহর মুল্লুক সড়ক নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই নদীর উৎপত্তি আরাকান রাজ্যের পাহাড় থেকে।তাই এই নদী খুবই খরস্রোতা । প্রবল বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে নদী ভাঙনের মুখে পড়ে মাস্টারপাড়া এলাকা। এই ভাঙন দ্রুত সমাধান করা না গেলে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়বে শতশত পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দা মোজাহেরুল ইসলাম জানান, বাঁকখালী নদী ভাঙনের ফলে আমাদের বাড়িঘর যেকোনো মুহূর্তে নদীতে তলিয়ে যেতে পারে। মসজিদের প্রায় অর্ধেক অংশ নদীতে তলিয়ে গেছে। আমরা এলাকাবাসী এখন আতঙ্কে দিনযাপন করছি। প্রতি বছর বর্ষাকালে আমরা এমন দুর্ভোগের শিকার হই। এতো খারাপ অবস্থার পরও সরকার কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছেনা।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছড়ি এলাকার মাস্টারপাড়া ও পশ্চিমপাড়া এলাকায় প্রায় ২ শতাধিক পরিবারের বসবাস । গত কয়েক বছরে নদী ভাঙনের ফলে ওই ইউনিয়নের দুটি ঐতিহ্যবাহী এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে।
মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর সেলিম জানান, মাস্টারপাড়া ও পশ্চিমপাড়া মিলে দুই গ্রামে প্রায় ২ শতাধিক পরিবারের বসবাস। যে হারে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে এখনই ব্যবস্থা না নিলে কয়েকশ পরিবার নদী ভাঙনে ঘর হারাবে। ইতিমধ্যে আমার বাড়ির উঠান পর্যন্ত নদী গর্ভে চলে গিয়েছে। বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে এই নদী। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাপারে তিনি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, এই নদী ভাঙনের ফলে বেশ কিছু পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেটি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করা হয়েছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ -বিভাগীয় প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ইমার্জেন্সি ভাঙন রোধে শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।