মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আগামী শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ভর্তিতে আসছে বড় পরিবর্তন ইয়েমেনের তেল-গ্যাসসমৃদ্ধ প্রদেশের দিকে এগোচ্ছে হুথিরা ব্যাংকিং খাতের মতো বিমা খাতেও বিশাল অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি হয়েছে: অর্থমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দূতাবাসের ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৩৩ জন সৌদিতে হুথিদের হামলা, তবু কেন অস্ত্র ধরছে না মক্কা জোট ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড, শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: ইউক্রেনকে ট্রাম্প ব্যাংকে কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ৫ হাজারের বেশি ১৩ দিনে ১৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা রেমিট্যান্স এসেছে

‘শেখের বেটির দেওয়া ঘরোত উঠছিনু, সেটাও নদীত চলি গেলো’

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

‘ঘর-বাড়ি কিছুই আছিলো না, ৬ মাস হলো শেখের বেটির দেয়া ঘরোত উঠছিনু বাহে। সেটাও আজ নদীত চলি গেলো। জাগা-জমি কিছুই নাই, মুই এ্যালা কিসের তলোত থাকিম’।

এভাবেই অশ্রু ভেজা চোখে কথাগুলো বলছিলেন উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের অর্জুন গ্রামের আবুল হোসেন প্রামাণীক (৫০)। শনিবার ভোর হতেই তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র ভাঙনে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর দেয়া দুর্যোগ সহনীয় বাড়িটি ভাঙনের কবলে পড়ে।

ওই গ্রামের জাহেরুল হক, রবুল হোসেন, দেলদার হোসেন, কছির উদ্দিন, সামেদ জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভোর হতেই নিমিষেই আমাদের বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে চলে যায়। এ ছাড়া ওই ইউনিয়নের কর্পূরা, চর রতিদেব, চর কর্পূরা গ্রামের প্রায় ২০ পরিবারের বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে চলে গেছে।

এদিকে, তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ২ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি ব্রিজ পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এ ছাড়া ব্রহ্মপূত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি এসব এলাকার মানুষজন স্যানিটেশনসহ গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে, দলদলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান মুন্সির বাড়িসহ কর্পূরা করিমীয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঠুটাপাইকর উচ্চ বিদ্যালয়, ঠুটাপাইকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র, ওই ইউনিয়নের অর্জুন গ্রামের নালারচর সোলেমানীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদসহ কয়েকশত ঘর-বাড়ি ও আবাদি জমি।

দলদলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান মুন্সি বলেন, আমার বাবা আব্দুল করিম মুন্সি ও তিন মায়ের মধ্যে বাবা ও এক মায়ের কবর শুক্রবার অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছি। বাকি দুই মায়ের কবরও যেকোনো মহুর্তে নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। তিস্তা ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

অপরদিকে, তিস্তা অববাহিকার থেতরাই ইউনিয়নের পাঁকার মাথা, চর গোড়াইপিয়ার, হোকডাঙ্গা, মাঝিপাড়া, ডাক্তারপাড়া, গুনাইগাছ ইউনিয়নের নন্দু নেফড়া, টিটমা, সন্তোষ অভিরাম, কাজিরচক, সুখদেব ও বজরা ইউনিয়নের সাদুয়া দামারহাট, পশ্চিম বজরা, সাতালস্কর, বগুলাকুড়া, চাদনী বজরা, চর বজরা গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘর গত দুই দিনের ব্যবধানে কয়েকশত আবাদি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে।

লাইট নিউজ

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD