সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর শেখ হাসিনার নামে দেশে সম্পদের হিসাব ব্যাংক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশ দেশে অটোরিকশা ৮০ লাখ, অবৈধ চার্জে বছরে রাজস্ব ক্ষতি ৪ হাজার কোটি টাকা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না’ ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ালে ছাড় নয়’— দক্ষিণ কোরিয়াকে হুঁশিয়ারি ইরানের বৈধভাবে বছরে ১০ হাজার শ্রমিক ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ আছে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে জাপানকে ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫১৪, মামলা ৬১ সংঘাত-প্রতিশোধ নয়, সহনশীল রাজনীতি করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ভেনেজুয়েলার ভারি তেল যেভাবে খোলনচলে বদলে দেবে মার্কিন জ্বালানি খাত

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের খনি এবং সেখান থেকে উৎপাদিত ‘ভারি’ ও ‘সাওয়ার’ (উচ্চ সালফারযুক্ত) অপরিশোধিত তেল মার্কিন রিফাইনারিগুলোর জন্য এক অভাবনীয় সুযোগ তৈরি করেছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর দেশটির তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যে প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র চালাচ্ছে, তাতে এই বিশেষ ধরনের তেলের গুরুত্ব এখন সবার নজরে।

বিশ্বে তেলের শত শত ধরন থাকলেও সান্দ্রতা এবং সালফারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে এদের চাহিদা ভিন্ন হয়। সাধারণত হালকা ও মিষ্টি তেল প্রক্রিয়াকরণ সহজ হলেও ভেনেজুয়েলার তেল মূলত ভারি ও টক স্বাদের, যা জ্বালানি হিসেবে রূপান্তর করা বেশ ব্যয়বহুল ও জটিল।

ভেনেজুয়েলার কাছে বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের মজুদ রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। এই মজুদের সিংহভাগই দেশটির ওরিনোকো তেল বেল্টে অবস্থিত। তবে দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং অবকাঠামোগত অবক্ষয়ের কারণে দেশটির উৎপাদন ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

১৯৭০-এর দশকে যেখানে দৈনিক উৎপাদন ছিল ৩৫ লাখ ব্যারেল, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৯ লাখ ব্যারেলের নিচে। বিশ্লেষকদের মতে, এই খাতের পুনরুজ্জীবনে অন্তত ১১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মার্কিন কোম্পানিগুলো সেখানে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে প্রস্তুত। যদিও নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান এখনো দ্বিধাগ্রস্ত।

তবে তেল উত্তোলনকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে দ্বিধা থাকলেও মার্কিন রিফাইনারি বা তেল শোধনাগারগুলোর জন্য ভেনেজুয়েলার এই তেল অত্যন্ত লাভজনক। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদনকারী দেশ হলেও তাদের উৎপাদিত তেল মূলত ‘হালকা শ্লেল অয়েল’। কিন্তু টেক্সাস ও লুইজিয়ানার উপকূলীয় শোধনাগারগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশই তৈরি করা হয়েছে ভারী তেল প্রক্রিয়াকরণের উপযোগী করে।

কয়েক দশক আগে যখন ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল সরবরাহকারী ছিল, তখন থেকেই এই শোধনাগারগুলো তাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিশেষ কারিগরি কাঠামোয় গড়ে তোলা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার ভারি তেলের সরবরাহ বাড়লে মার্কিন রিফাইনারিগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। বর্তমানে মার্কিন শোধনাগারগুলো কানাডা থেকে ভারি তেল আমদানি করে তাদের চাহিদা মেটাচ্ছে। কিন্তু ভেনেজুয়েলার তেল সাধারণত কানাডিয়ান তেলের তুলনায় সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়।

ফলে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এবং ভেনেজুয়েলা থেকে তেলের প্রবাহ বাড়লে তা কেবল মার্কিন জ্বালানি নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং শোধনাগারগুলোর মুনাফাও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

সূত্র: আল জাজিরা

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD