কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্বাচনি গণমিছিলে মানুষের ঢল নেমেছে। এতে প্রায় লাখের অধিক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর থেকে পেকুয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা মিছিলে বাস ট্রাক ও নানা পরিবহণ যোগে আসতে থাকেন। কারো কাছে ছিল প্ল্যাকার্ড, কারো কাছে সালাহউদ্দিন আহমদের ছবি, আবার কারো কাছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি। কেউ আবার নাচেগানে ধানের শীষ নিয়ে ভোট চাইছেন।
বিকালে কবির আহমদ চৌধুরী বাজার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বানৌজা সড়ক হয়ে সাকুরপাড় স্টেশনে গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়৷ স্থানীয়রা ধারণা করছেন প্রায় লাখের অধিক মানুষের সমাগম হয়েছে।
উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এ গণমিছিলের সম্মুখভাগে ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। মিছিলটিতে মানুষের উপস্থিতি পেকুয়ার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল।
মিছিল শেষে পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে সবাইকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান। দীর্ঘ এ কর্মসূচিতে সবাই ক্লান্ত হলেও নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, আজ ৮ তারিখ, উপজেলার নির্বাচনি প্রচারণার শেষ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুর ২টায় চকরিয়া বাস টার্মিনালে আমাদের নির্বাচনি শেষ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। আশা করি, আপনারা সবাই যেভাবে পারেন সেখানে উপস্থিত থেকে আমাদের শক্তি ও সাহস জোগাবেন।
নির্বাচনি আচরণবিধির কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, সোমবার রাতের মধ্যেই সব ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা কার্যক্রম শেষ হবে। ১০ তারিখ সকাল ৮টার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণার সময়সীমা শেষ হয়ে যাবে।
ভোটের দিন নেতাকর্মীদের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রত্যেককে নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে এবং ফলাফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ছাড়বেন না। একই সঙ্গে শান্তি বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা এবং ভোট কেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়ম যেন না হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মা-বোনেরা যেন নির্ভয়ে নিজেদের পরিচয় দিয়ে ভোট দিতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। ইনশাআল্লাহ, এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি নতুন যাত্রা শুরু করবে এবং একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, দেশের জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যেখানে আর কখনো রক্ত দিতে হবে না। তিনি সবাইকে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ ঘরে বসে থাকবেন না।
এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী হাসিনা আহমদ, তাদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক জেড এম মুসলেম উদ্দিন ও ডাক্তার বেলাল হায়দার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদীদ মুকুট, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আহছান উল্লাহসহ বিএনপির ও অঙ্গ, সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।