নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চাননন্দী ইউনিয়নে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে তিন সন্তানের জননীকে নিজঘরে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিছক ‘প্রোপাগান্ডা এবং দৃষ্টি আকর্ষণের’ জন্য বলে দাবি করেছেন নোয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার (হাতিয়া সার্কেল) মো. নুরুল আনোয়ার।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে মুঠোফোনে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
নুরুল আনোয়ার বলেন, এটি অতিরঞ্জন ও প্রোপাগান্ডা। আগে থেকে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ছিল। সেটা থেকে টুকিটাকি ঝামেলা হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের যেভাবে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তেমন না।
তিনি বলেন, শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার জন্য এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি জাস্ট প্রোপাগান্ডা। দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য, ইস্যু করার জন্য করা হয়েছে। মাঠে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছে বলে জানান তিনি।
হাতিয়ায় ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি একইসময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, আমাদের কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি বা ফোনেও জানাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জেনে একজন এএসপি ও একজন ইন্সপেক্টরকে পাঠাই। স্থানীয় লোকেরা ধর্ষণের বিষয়ে জানেন না, তবে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জানান। ওই নারী যাকে অভিযুক্ত করছেন, হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী সেই ব্যক্তি একইসময়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, হাসপাতাল থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব দেড় থেকে দুই ঘণ্টার। তবে লিখিত অভিযোগ করলে তদন্তে যাব। কিন্তু বিষয়টির প্রাথমিক তদন্তের কাজটি সম্পন্ন করেছি।
এদিকে অভিযুক্তের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলা উদ্দিন রনি। তিনি বলেছেন, যাকে বিএনপির কর্মী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই, সে মূলত আওয়ামী লীগের কর্মী। ধর্ষণের ঘটনা সত্যি হলে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রকৃত দোষীকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তিনি এবং বিএনপির নামে যারা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে তাদেরও বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে শনিবার রাতে নোয়াখালী-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ ধর্ষণের শিকার দাবি করা নারীকে দেখতে হাসপাতালে যান। হাসপাতালে গিয়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ভিডিও কল দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ওই নারীকে দেখতে নোয়াখালী আসবেন জামায়াত আমির।