মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের কাছে ১৫ দফা একটি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস ও ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২। তবে পরিকল্পনার নির্দিষ্ট দফাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমানো এবং চলমান সংঘাতের একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা।
যদিও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি, তবু কূটনৈতিক পর্যায়ে সক্রিয় যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সামরিক চাপের পাশাপাশি আলোচনার পথ খোলা রাখতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই ১৫ দফা পরিকল্পনা ইরান কতটা ইতিবাচকভাবে নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কিংবা ইসরায়েল তা সমর্থন দেবে কি না—তা স্পষ্ট নয়। তবে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এটি একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে এসেছেন। উভয় পক্ষ সম্মত হলে ইসলামাবাদ আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ডট ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত দুই দিনে তেহরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা কয়েকটি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ’ থেকে বার্তা পেয়েছেন, যেখানে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে—এমন দাবি তারা নাকচ করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।