সরকারি দল সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় তিনি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কমিটিতে পাঁচজনের নাম চান।
তখন বিরোধীদলীয় নেতা জানান, বিরোধী দল নাম দেবে কি না, তা আলোচনা করে পরে জানানো হবে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে সংসদের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে আইনমন্ত্রী বিশেষ কমিটি গঠনের এ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত যে সাংবিধানিক চর্চা চলে, সেই সাংবিধানিক চর্চা আমরা এখানেও করতে চাই।
সেই চর্চার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে আমি এবং আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন যে, আমরা একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি করতে চাই, যেটা সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। আমাদের রুল ২৬৬ অনুসারে সেই কমিটির বিষয়ে আমরা ১২ জনের নামের তালিকা ঠিক করেছি।
যেখানে বিএনপি আছে, যেখানে গণঅধিকার পরিষদ আছে, যেখানে গণসংহতি আছে, যেখানে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপিও আছে এবং স্বতন্ত্র সদস্যদেরও রাখা হয়েছে। ১২ জনের একটি তালিকা আমরা করেছি। আমরা প্রত্যাশা করি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে।
আসাদুজ্জামান কমিটিতে বিরোধীদলের অংশগ্রহণের বিষয়ে বলেন, যদি আমি পারসেন্টেজ হিসেবে যাই, ২৬ শতাংশ আসে, সেখানে আমরা ওনাদের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম চাচ্ছি। এখানে ১২ জনের মধ্যে বিএনপি ৭ জন দিয়েছে, পাঁচজন অন্য দলের থেকে দেওয়া হয়েছে। এবং ওনাদের পক্ষ থেকে যদি পাঁচজনকে দেওয়া হয়, তাহলে এই কমিটির সংক্রান্ত বিষয় আমরা আগামীকাল উপস্থাপন করতে চাই। সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করার জন্য আগামীকাল আমরা চাই, ওনাদের পক্ষ থেকে যদি পাঁচজনের নাম কালকে দেন, তাহলে আমরা এই কমিটি গঠন করে সংবিধান সংশোধন এবং জুলাই সনদকে সামনে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিরোধী দলের নেতা, আইনমন্ত্রী যে কথাটা বললেন যে বিএনপি থেকে সাতজন আর অন্যান্য সংগঠন থেকে পাঁচজন—এই ১২ জনের একটা তালিকা ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে মোর অর লেস প্রস্তুত করেছেন। আপনাদের অপোজিশন থেকে পাঁচ জনের তালিকা চাচ্ছেন। এই ১৭ জন নিয়ে ওনারা যে বিশেষ কমিটিটা করবেন, দয়া করে যদি আপনি আপনাদের পাঁচজনের তালিকাটা দেন, তাহলে হয়তো কমিটি গঠন প্রক্রিয়াটা এগিয়ে যাবে।
এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়টা নিয়ে চিফ হুইপও আমার সঙ্গে কথা বলেছে। উনি যথারীতি সংসদ নেতার সালাম নিয়েই কথা বলেছেন। আমি ওনাকে বলেছি যে, এই বিষয়টা আমাদের মাঝে একটা আলোচনার বিষয় আছে। কারণ এখানে কনসেপচুয়াল ডিফারেন্স আছে আমাদের। তা আমরা আলোচনা করে জানাবো। এটা আজকেই হয়ে যাবে—বোধহয় এটা হবে না। এই সেশনটায় আমরা মত দিতে পারব না। কারণ আমরা চেয়েছি রিফর্ম, আর এখানে হচ্ছে অ্যামেন্ডমেন্ট। এই জায়গাটায় আগেও আমাদের ডিফারেন্স ছিল, এখনও এটা আছে। যে প্রস্তাব উনারা দিয়েছেন, সেটাকে আমরা নিলাম, শুনলাম। বাট আমরা পরে জানাবো, এখন আমরা কিছু বলছি না এ ব্যাপারে।
এর পর আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের এটাতে কোনো অসুবিধা নেই। আমরা অপেক্ষা করব, আমরা সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাব, জুলাই সনদের আলোকে। সুতরাং আমাদের যদি এজন্য অপেক্ষা করতে হয়, আমাদের পরবর্তী সেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে কোনো অসুবিধা হবে না।