বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

লেবার পার্টিতে সংকট : স্ট্রিটিংয়ের সঙ্গে বসছেন স্টারমার

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে পদত্যাগের জন্য সময় নির্ধারণ করতে বলা ও তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে চার মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনায় বেশ সংকটে রয়েছে লেবার পার্টি। এ পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পেতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েজ স্ট্রিটিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ব্রিটিশ সরকারপ্রধান। দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র সংকটের মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, লেবার পার্টির একাংশের সংসদ সদস্যরা স্টারমারকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় সরকার ও দল উভয় ক্ষেত্রেই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে চার মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সেফগার্ডিং বিষয়ক মন্ত্রী জেস ফিলিপস ও স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুবির আহমেদ। এছাড়া ৮০ জনের বেশি লেবার এমপি স্টারমারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। এতে দলটির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তবে গতকাল মঙ্গলবার স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি সরকার পরিচালনার কাজ চালিয়ে যাবেন। মন্ত্রিসভার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সদস্য ও শতাধিক এমপি তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছেন।

সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলাফলের পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে। এর মধ্যেই সরকারের নতুন আইনগত কর্মসূচি ঘোষণা করতে বুধবার পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে ‘কিংস স্পিচ’।

এর আগে ডাউনিং স্ট্রিটে স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করবেন ওয়েস স্ট্রিটিং। তাকে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বপ্রত্যাশী হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিংস স্পিচকে ঘিরে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে; এমন মন্তব্য তিনি বৈঠকের পর করবেন না।

সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্টারমার স্পষ্ট করে দেন যে তিনি নির্বাচনের ফলাফল বা নিজের নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করবেন না। এসব বিষয়ে তিনি মন্ত্রীদের সঙ্গে শুধু ব্যক্তিগতভাবে কথা বলবেন।

বিবিসির তথ্যমতে, কয়েকজন মন্ত্রী বৈঠকের পর স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে তিনি সে বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

গত সোমবার এক বক্তব্যে স্টারমার বলেন, ধীরগতির পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। দেশের বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

তবে সেই বক্তব্যে সন্তুষ্ট হননি জেস ফিলিপস। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, নিজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ‘বাস্তব পরিবর্তন’ আনতে তাকে প্রায়ই কঠোর অবস্থান নিতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আপনি মূলত একজন ভালো মানুষ। কিন্তু শুধু ভালো মানুষ হওয়াই যথেষ্ট নয়। বিতর্ক এড়িয়ে চলার প্রবণতার কারণে আমরা অনেক সময় প্রয়োজনীয় অবস্থান নিতে পারিনি, ফলে অগ্রগতি থেমে গেছে।

পদত্যাগপত্রের শেষাংশে ফিলিপস লেখেন, আমি চাই লেবার সরকার সফল হোক। কিন্তু দেশের মানুষ যে পরিবর্তন প্রত্যাশা করে, তা আমি দেখতে পাচ্ছি না। তাই বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে পারছি না।

এর আগে ডিভল্যুশন, ধর্ম ও কমিউনিটিবিষয়ক মন্ত্রী মিয়াত্তা ফাহনবুলেহ পদত্যাগ করেন। তিনি স্টারমারকে ‘দেশ ও দলের স্বার্থে সুশৃঙ্খল নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময়সূচি’ ঘোষণার আহ্বান জানান।

এছাড়া ভিকটিম ও নারী নির্যাতনবিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স দাভিস-জোনস পদত্যাগ করে ‘সাহসী ও মৌলিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার দাবি জানান।

জুবির আহমেদ তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, জনগণ স্টারমারের প্রতি ‘অপরিবর্তনীয়ভাবে আস্থা হারিয়েছে’ এবং তার প্রধানমন্ত্রিত্ব ‘আর টেকসই নয়’।

এদিকে পদত্যাগ করা মন্ত্রীদের স্থলে নতুন নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নেসিল কালিসকান, নাটালি ফ্লিট , ক্যাথরিন অ্যাটকিনসন ও প্রীত কৌর গিল। নতুন মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

অন্যদিকে জেন কিচেন, ডিয়ার্ড্রে কস্টিগান ও শন ডেভিস লেবার পার্টির হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

তাছাড়া, স্টারমারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিদ্রোহী এমপিদের ‘এক ধাপ পেছনে সরে দাঁড়ানোর’ আহ্বান জানিয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD