বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন

ইরান ইস্যুতে চীনের সহায়তা লাগবে না, দাবি ট্রাম্পের

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে চীনের সহায়তা প্রয়োজন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি টেকসই হওয়ার সম্ভাবনাও কমে আসছে। এ দিকে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

বেইজিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান সংকট মোকাবিলায় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সহায়তা নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন না।

ট্রাম্প বলেন, ইরান নিয়ে আমাদের কারও সাহায্য প্রয়োজন নেই। শান্তিপূর্ণভাবে বা অন্য কোনো উপায়ে আমরাই জিতব।

এক মাসের বেশি সময় আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখনো সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব আরও শক্ত করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে ইরাক ও পাকিস্তানের সঙ্গে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন নিয়ে সমঝোতা করেছে। আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা করছে বলেও জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘমেয়াদে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে।

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন যে কোনো দেশই ওই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করতে পারবে না। বেইজিং এ অবস্থানের বিরোধিতা করেনি।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে ইরান যুদ্ধ বড় আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন চায়, চীন তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে চাপ দিক।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি হচ্ছে, ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ‘চাপ সৃষ্টি’ বন্ধ করতে হবে। বিপরীতে তেহরান যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। এসব দাবিকে সোমবার ‘আবর্জনা’ বলে উড়িয়ে দেন ট্রাম্প।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত মার্কিন শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে এবং তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। খাদ্যপণ্য, বাড়িভাড়া ও বিমান ভাড়ার দামও বেড়েছে।

তবে এসব অর্থনৈতিক চাপ তার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটুও না।’

তিনি বলেন, ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র না পায় এটাই একমাত্র বিষয় যা আমাকে প্রভাবিত করে।

এদিকে সংঘাত নিরসনে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের ওপরে উঠেছে।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বর্তমানে আরব সাগরে অবস্থান করছে এবং অবরোধ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। এ সময় ৬৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে বিকল্প পথে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চারটি জাহাজ অকার্যকর করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার, যা গত মাসের তুলনায় আরও ৪ বিলিয়ন ডলার বেশি।

এদিকে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলেও বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এলাকা আরও সম্প্রসারণ করেছে। একই সঙ্গে তেহরানে সামরিক মহড়াও চালানো হয়েছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD