যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ দাবি অস্বীকার করেছে ইউএই।
বুধবার (১৩ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার রাতে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউএই জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রকাশ্য, সুপরিচিত এবং প্রকাশ্যে ঘোষিত আব্রাহাম চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠিত। এই সম্পর্ক কোনো গোপন বা আড়াল করা ব্যবস্থার ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি। এছাড়া, ইউএইর সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া কোনো গোপন সফর বা সমঝোতা সংক্রান্ত দাবি ভিত্তিহীন।
নেতানিয়াহুর দপ্তরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পর ইউএইর এই প্রতিক্রিয়া সামনে আসে। পোস্টে দাবি করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে বোমা হামলা চলাকালে নেতানিয়াহু ‘গোপন সফরে’ ইউএই গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি।
নেতানিয়াহুর দপ্তর এই ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ বলে উল্লেখ করেছে।
এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলবিষয়ক রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি জানান, সম্ভাব্য ইরানি হামলা মোকাবিলায় সহায়তা করতে ইসরায়েল ইউএইতে আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সদস্য মোতায়েন করেছে। মঙ্গলবার তেল আবিবে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাকাবি বলেন, ইউএই হলো ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের একটি উদাহরণ।
এর আগে চলতি মাসে ডব্লিউএএমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ মে ইরানের হামলার পর শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ কয়েকজন আঞ্চলিক নেতার ফোনকল পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে নেতানিয়াহুও ছিলেন। তিনি ইউএইর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানান।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করার পর ইউএইসহ কয়েকটি আরব দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ে। পরে ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত তথাকথিত ‘আব্রাহাম চুক্তি’র পর থেকেই ইসরায়েল ও ইউএইর সম্পর্ক ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হয়।