মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে একটি ফলপ্রসূ বৈঠকে একমত হয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি ‘অবশ্যই খোলা রাখতে হবে’। হোয়াইট হাউস থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকাংশেই বন্ধ করে দিয়েছে। এই জলপথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) হোয়াইট হাউস থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালি অবশ্যই খোলা রাখতে হবে—এই বিষয়ে মার্কিন ও চীনা পক্ষ একমত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে খনিজ তেল আসতে না পারায় চীন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সামুদ্রিক বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর তথ্য অনুসারে, চীন সমুদ্রপথে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে তার অর্ধেকেরও বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং তা মূলত এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে শি জিনপিং আরও বেশি মার্কিন তেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে ট্রাম্প-শি বৈঠকের বিষয়ে বেইজিংয়ের নিজস্ব বিবৃতিতে এ ধরনের কোনো আগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে তাইওয়ান নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কোনো আলোচনার কথা উল্লেখ করা হয়নি। স্বশাসিত এই দ্বীপটিকে বেইজিং নিজেদের বলে দাবি করে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র-চীন কূটনীতির একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এর আগে চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট শি সতর্ক করে বলেছিলেন, তাইওয়ান ইস্যুটি ভুলভাবে পরিচালনা করা হলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘সংঘাত’ শুরু হতে পারে।