ভোটের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে সমস্ত অশান্তির অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে হাই কোর্টে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলা লড়তে আইনজীবী হিসেবে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই হাজির হয়েছিলেন।
আদালত থেকে বেরিয়ে আসার সময় তাকে ঘিরে স্লোগান দেওয়া নিয়ে এক সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পরিস্থিতি। সেই সময় ‘চোর চোর’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়েছিল।
ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আদালত চত্বর। উপস্থিত একাংশের দিকে উদ্দেশ্য করে মমতা ব্যানার্জী বলেন, “ওরা আমাকে মেরেছে।”
ওই মামলাটি দায়ের করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজিত প্রার্থী ও আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলায় আইনজীবী হিসাবে আদালতে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এর আগে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা লড়তে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল তৃণমূল সভানেত্রীকে। তারপর ফের বৃহস্পতিবার একই ভূমিকায় দেখা গেল তাকে।
আদালত চত্বরে মমতাকে ঘিরে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়ার নিন্দা জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এ ঘটনার জন্য রাজ্য সরকারে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে দায়ী করেছে দলটি।
তবে তৃণমূলের এ অভিযোগের জবাবে বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “এটা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। উনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, একজন মহিলা।
তাকে দেখলে মানুষ রাস্তায় চোর-চোর স্লোগান দেবে- এই কাজ বিজেপি করে না। এই পরিস্থিতিও বিজেপি তৈরি করেনি। এজন্য যদি কেউ দায়ী হয়ে থাকে, সেটা তৃণমূল।”
বার্তা সংস্থা এএনআই-র তথ্য অনুযায়ী, মমতা ব্যানার্জী আদালতে বলেছেন, “ভোটের পরে শিশু, নারী, সংখ্যালঘু কাউকে রেয়াত করা হচ্ছে না। প্রতিদিন এই সব অভিযোগ আসছে। ঘর, বাড়ি লুট করছে, আগুন জ্বালাচ্ছে। পুলিশ কিছু করছে না।”
পাশাপাশি বলেছেন, “রাজ্যের মানুষকে বাঁচান। এটা উত্তর প্রদেশ নয় বুলডোজার রাজ্য নয়। এটা পশ্চিমবঙ্গ, রাজ্যবাসীকে বাঁচান।”
হাই কোর্টে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “আমার অনেক কাজ জানেন তো। এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই আমার কাছে। আর আমি এসব নিয়ে ভাবতেও রাজি নই।”
হাই কোর্টে গিয়ে আইনজীবী হিসাবে মমতার সওয়ালের পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বার কাউন্সিলকে চিঠি দিয়েছে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (বিসিআই)। ‘আইনজীবী’ মমতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে সেই চিঠিতে। বিসিআই জানতে চেয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নাম কবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। মমতার ‘লিগ্যাল প্র্যাকটিস স্ট্যাটাস’ অর্থাৎ, আইনি পেশা সংক্রান্ত তথ্যও জানতে চেয়েছে দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ঠিক কবে আইনজীবী হিসাবে মমতার নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে, পেশা স্থগিত এবং পুনরায় শুরু তথা মমতার আইনি পেশার শংসাপত্র দেখতে চেয়েছে তারা। আগামী দু’দিনের মধ্যে ওই সমস্ত তথ্য দিতে নির্দেশ দিয়েছে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া।
সূত্র : বিবিসি বাংলা, আনন্দবাজার