রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

হরমুজে ট্রানজিট পেতে তেহরানের দরজায় ইউরোপের দেশগুলো

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেতে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন ইরানের সাথে আলোচনা শুরু করেছে। শনিবার (১৬ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো—বিশেষ করে চীন, জাপান ও পাকিস্তান এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর, এবার ইউরোপীয় দেশগুলোও তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতির জন্য ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর নৌবাহিনীর সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে। তবে কোন কোন দেশ এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌচলাচল মূলত বন্ধ করে দেয় ইরান। পরবর্তীতে গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) চালানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য শান্তিকালীন সময়ে এই রুট দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথের উপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে, যা তেহরানকে ভূরাজনৈতিকভাবে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর উপর নিজস্ব নৌ অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর আদর্শিক শাখা ‘গার্ডস’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ইরানের প্রণালী ব্যবস্থাপনা প্রোটোকল সংক্রান্ত একটি চুক্তির’ পর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে চীনসহ বেশ কিছু দেশের কয়েক ডজন জাহাজকে তারা যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে।

ইরান শুরু থেকেই স্পষ্ট করে বলে আসছে যে, এই প্রণালীতে সামুদ্রিক যান চলাচল আর কখনোই যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে না। এছাড়া গত মাস থেকে এই জলপথে আরোপিত টোল বা ফি থেকে তারা প্রথম রাজস্ব আদায়ও শুরু করেছে।

এদিকে শনিবার ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও সুনির্দিষ্টভাবে পরিচালনার জন্য তারা একটি পেশাদার ও বিশেষায়িত ব্যবস্থা প্রস্তুত করেছেন, যা শিগগিরই উন্মোচন করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই নতুন ব্যবস্থার ফলে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ইরানের সাথে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা পক্ষগুলোই লাভবান হবে। পাশাপাশি জলপথ ব্যবহারের বিশেষায়িত পরিষেবার জন্য নির্ধারিত ফি সংগ্রহ করা হবে বলেও তিনি জানান।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD