যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার এক শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেছেন, উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকলে ওমান সাগর মার্কিন জাহাজের “কবরস্থানে” পরিণত হতে পারে।
ইরানের এক্সপিডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সদস্য মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে বলেন, “সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে আমার পরামর্শ হলো, ওমান উপসাগর আপনার জাহাজগুলোর কবরস্থানে পরিণত হওয়ার আগেই পিছু হটুন। অন্যথায়, আমাদের দৃষ্টিতে নৌ অবরোধ একটি যুদ্ধঘোষণার শামিল এবং এর জবাব দেওয়া আমাদের স্বাভাবিক অধিকার।”
রেজায়ি আরও বলেন, ইরানের ধৈর্যকে যেন চাপ বা হুমকি মেনে নেওয়া হিসেবে ব্যাখ্যা না করা হয়।
তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত আমরা ধৈর্য ধরেছি, মানে এই নয় যে আমরা এটি মেনে নিয়েছি।”
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, একসময় ওয়াশিংটন সোভিয়েত ইউনিয়নের মোকাবিলার কথা বলে এই অঞ্চলে অবস্থান নিলেও এখন সেই অজুহাত আর নেই।
রেজায়ি বলেন, “আমেরিকা এখানে আসে এবং যুদ্ধজাহাজ নিয়ে আসে। তাদের শত্রু কে? একসময় তারা বলত সোভিয়েত ইউনিয়নের মোকাবিলায় এসেছে। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন এখন আর নেই।”
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি সবসময় বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে বিদেশি সামরিক তৎপরতা ও নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
তার ভাষায়, “হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু সামরিক সমাবেশ ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার জন্য তা বন্ধ থাকবে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর জবাবে তেহরান পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান।
এরপর ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত এই জলপথে ইরানি সামুদ্রিক চলাচল লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ কার্যকর করে আসছে।
সূত্র; আনাদলু